গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের কৃতী সন্তান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহব্বত জান চৌধুরী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সোমবার দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাবের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হক।
সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরে সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা জানানো হয়।
মুকসুদপুরে জন্ম নেওয়া মহব্বত জান চৌধুরী ছিলেন দেশের একজন বরেণ্য সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিক। তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেন তিনি।
১৯৮২ সালে মেজর জেনারেল থাকা অবস্থায় তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেন। ওই বছরের জুলাই থেকে ১৯৮৩ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় এক বছর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থাতেই মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়া মহব্বত জান পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে এরশাদ-সমর্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও জোট গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। এর মধ্যে এরশাদের সামরিক শাসনকে সমর্থনকারী জাতীয় ফ্রন্টও ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ধারাটি জাতীয় পার্টিতে রূপ নেয়।
সামরিক ও রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি মহব্বত জান চৌধুরী মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেসের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মুকসুদপুরের এই কৃতী সন্তানের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।





