একটি উপজেলার পরিচয় শুধু তার আয়তন, জনসংখ্যা কিংবা ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নাগরিক সেবা, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরও এর ব্যতিক্রম নয়।
‘আমাদের মুকসুদপুর’ ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো, সরকারি দপ্তর, উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্ব এবং ১৬টি ইউনিয়নের পরিচিতি।
মুকসুদপুর উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। সরকারি ও অন্যান্য প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন হলো—পশারগাতি, গোবিন্দপুর, খান্দারপাড়া, বহুগ্রাম, বাঁশবাড়িয়া, ভাবড়াশুর, মহারাজপুর, বাটিকামারী, দিগনগর, রাঘদী, গোহালা, মোচনা, উজানী, কাশালিয়া, ননীক্ষীর ও জলিরপাড়।
এর পাশাপাশি রয়েছে মুকসুদপুর পৌরসভা। পৌরসভাটি ৯টি ওয়ার্ড ও ১৫টি মহল্লায় বিভক্ত।
মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সরকারি কর্মচারী তালিকাতেও তাঁকে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা পর্যায়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। আইনশৃঙ্খলা, ভূমি প্রশাসন, নির্বাচন, মোবাইল কোর্ট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির সমন্বয় এবং উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকে। সরকারি উপজেলা ওয়েবসাইটেও ইউএনওর এসব দায়িত্ব বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিভিন্ন সময়ে একাধিক জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত সাবেক চেয়ারম্যানদের তালিকায় মো. খায়রুল বাকী মিয়া, মুন্সী মো. আতিয়ার রহমান, রবিউল আলম শিকদার, আশরাফুল আলম শিমুল ও মো. কাবির মিয়ার নাম রয়েছে। সর্বশেষ তালিকাভুক্ত চেয়ারম্যান মো. কাবির মিয়া ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমান চেয়ারম্যানের বিষয়ে উপজেলা ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্য হালনাগাদ না থাকায় নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো নাম উল্লেখ না করাই সমীচীন।
উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
এসব দপ্তর উপজেলার মানুষের বিভিন্ন সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করে।
মুকসুদপুরের প্রশাসনিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন। প্রতিটি ইউনিয়নের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, জনসংখ্যা, গ্রাম ও সামাজিক বৈচিত্র্য।
১. পশারগাতি ইউনিয়ন
২০২২ সালের জনশুমারি-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নটির জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার ৮৮৫ জন।
২. গোবিন্দপুর ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার ৮৩৬ জন।
৩. খান্দারপাড়া ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৯১ জন।
৪. বহুগ্রাম ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৮৯৭ জন।
৫. বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৫৩ জন।
৬. ভাবড়াশুর ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৩০৩ জন।
৭. মহারাজপুর ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার ১৫২ জন।
৮. বাটিকামারী ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার ৪৬ জন।
৯. দিগনগর ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার ৬৮৩ জন।
১০. রাঘদী ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ১১২ জন।
১১. গোহালা ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৬৪৪ জন।
১২. মোচনা ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ৭০ জন।
১৩. উজানী ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৬৪৩ জন।
১৪. কাশালিয়া ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ৮৪৬ জন।
১৫. ননীক্ষীর ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার ৬৯৪ জন।
১৬. জলিরপাড় ইউনিয়ন
জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার ২৯৫ জন।
ইউনিয়নগুলোর জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনার ইউনিয়নভিত্তিক ধর্মীয় জনসংখ্যার উপাত্ত থেকে মোট জনসংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; সরকারি উপজেলা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০১১/পুরোনো সাধারণ তথ্যের সঙ্গে এসব সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
উপজেলা: মুকসুদপুর
জেলা: গোপালগঞ্জ
পৌরসভা: ১টি
ইউনিয়ন: ১৬টি
উপজেলার জনসংখ্যা (২০২২): ৩,০৭,৫২৮ জন
পৌরসভার ওয়ার্ড: ৯টি
মৌজা: ২০৬টি
গ্রাম: ২৫৫টি
পোস্ট কোড: ৮১৪০
প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকে মুকসুদপুর একটি বড় ও বৈচিত্র্যময় উপজেলা। উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠান মিলেই এখানকার নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
‘আমাদের মুকসুদপুর’ ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বে থাকছে—মুকসুদপুরের ১৬ ইউনিয়নের নামের পেছনের ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম, হাট-বাজার ও স্থানীয় বৈশিষ্ট্য।





