প্রশাসনিকভাবে পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ জেলা। প্রতিটি উপজেলার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। গোপালগঞ্জ সদর, মুকসুদপুর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া—এই পাঁচ উপজেলা নিয়েই জেলার প্রশাসনিক কাঠামো।
জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র গোপালগঞ্জ সদর। জেলা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই এ উপজেলায় অবস্থিত। মধুমতি নদী ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এ উপজেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উলপুর জমিদার বাড়িসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনাও রয়েছে এখানে।
গোপালগঞ্জের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী উপজেলা মুকসুদপুর। কৃষিনির্ভর এ উপজেলার রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক ইতিহাস। উজানী রাজবাড়িসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা এ উপজেলার ঐতিহ্য বহন করছে।
গোপালগঞ্জের উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা কাশিয়ানী। ১৯৩৬ সালে মুকসুদপুর থানা বিভক্ত হয়ে কাশিয়ানী থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ উপজেলার সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি।
আরও পড়ুন: মহকুমা থেকে গোপালগঞ্জ
ইতিহাস ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ কোটালীপাড়া। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক ভিটা এ উপজেলার উনশিয়া গ্রামে অবস্থিত। পাশাপাশি বিভিন্ন বিল ও জলাভূমি কোটালীপাড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা। এখানেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান ও সমাধিসৌধ অবস্থিত। এ কারণে টুঙ্গিপাড়া শুধু গোপালগঞ্জ নয়, পুরো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান।
এ ছাড়া টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন বিল, বাওড় ও সবুজ প্রকৃতিও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
পাঁচ উপজেলার বৈচিত্র্যই গোপালগঞ্জের শক্তি। কোথাও ইতিহাস, কোথাও সাহিত্য, কোথাও ধর্মীয় ঐতিহ্য, আবার কোথাও নদী-বিল ও প্রকৃতির সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ একটি বৈচিত্র্যময় জেলা।
এই পাঁচ উপজেলা নিয়ে গড়ে ওঠা গোপালগঞ্জের উন্নয়ন সম্ভাবনাও ব্যাপক। পর্যটন, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়ানো সম্ভব।





