নদী-নালা, খাল-বিল আর সবুজে ঘেরা গোপালগঞ্জ শুধু একটি জেলা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এক জনপদ। দীর্ঘ প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এ জেলার রয়েছে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাস।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭২ সালে মাদারীপুর মহকুমার অধীনে ‘গোপালগঞ্জ’ নামে একটি থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮৭৩ সালে মাদারীপুর মহকুমা ফরিদপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত হলে গোপালগঞ্জও ফরিদপুরের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হয়।
এরপর প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়তে থাকায় ১৯০৯ সালে গোপালগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। গোপালগঞ্জ, কোটালীপাড়া ও মুকসুদপুর থানাকে নিয়ে এ মহকুমার যাত্রা শুরু হয়। ১৯২১ সালে গোপালগঞ্জ শহর হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সীমানায় পরিবর্তন আসে।
১৯৩৬ সালে মুকসুদপুর থানা বিভক্ত হয়ে কাশিয়ানী থানা গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি অংশ নিয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ মহকুমা থেকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ. এফ. এম. এহিয়া চৌধুরী।
গোপালগঞ্জের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসও। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও সমাধিস্থল হওয়ায় জাতীয় ইতিহাসে এ জেলার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে গোপালগঞ্জে পাঁচটি উপজেলা—গোপালগঞ্জ সদর, মুকসুদপুর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া। নদী, বিল, কৃষি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও মানুষের জীবনযাত্রা মিলিয়ে জেলার রয়েছে স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়।
সময় বদলেছে, বদলেছে প্রশাসনিক কাঠামো ও জীবনযাত্রা। তবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শেকড় ধরে রেখে গোপালগঞ্জ আজও বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত জনপদ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।





