• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিক্ষাখাতে ঘটতে যাচ্ছে আমূল পরিবর্তন মুকসুদপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আ’লীগ নেতার পদত্যাগ মুকসুদপুরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিক্রির দায়ে ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা মুকসুদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত মুকসুদপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রোজবার্তা সাক্ষাৎকার মুকসুদপুরে ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু মুকসুদপুরে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা মুকসুদপুরে ইউএনও’র নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান: ঈদযাত্রা ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রশাসন গোপালগঞ্জে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে আইজিপির ঈদ উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়

দুই যুগ পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় বি এন পি

Published শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রোজবার্তা সম্পাদকীয়ঃ
সর্বশেষ ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বাধিক আসন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। আজ ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পুনরায় সরকার গঠনের পথে দলটি। এবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও জনসমর্থন তাদের পক্ষে। দুই যুগেরও বেশি সময়—সংখ্যাগণনায় প্রায় ২৫ বছর—এই দুই সময়ের মধ্যে ব্যবধান।


২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বে চারদলীয় জোট সরকার দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে, যা ২০০৬ সালের নভেম্বরে মেয়াদ শেষে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। অতঃপর দীর্ঘ চড়াই-উতরাই, আন্দোলন, সংগ্রাম ও প্রতীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রায় বিশ বছর অতিবাহিত করে দলটি। বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিএনপি।
এই দুই বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়ে পাল্টে গেছে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রেক্ষাপট, গতি-প্রকৃতি ও ধারা। সে সময়ের জোটসঙ্গীদের অন্যতম প্রধান দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিরোধী আসনে বসতে যাচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ও রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রবাহে ঘটেছে আমূল পরিবর্তন। সময়ের বিবর্তনে এ পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও অতীতের রাজনৈতিক মানদণ্ড ও আন্তরিকতা প্রায় তলানিতে ঠেকেছে; পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বেও এসেছে পরিবর্তন।


তারেক রহমান এবারই প্রথম সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেন। পূর্বে তিনি তাঁর মায়ের নির্বাচনী প্রচারণায় সহায়তা এবং বিএনপিকে সংগঠিত করার কাজে ভূমিকা রাখলেও গত ৩০ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁকেই দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয় এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে হয় একক মুখ হিসেবে সারা দেশে প্রচারাভিযান পরিচালনার মাধ্যমে।


তিনি ২০০৮ সালে অসুস্থতাকালীন সময়ে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। ২০২৬ সালের প্রথম দিকে দেশে প্রত্যাবর্তন করে ঘোষণা দেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও ‘I Have a Plan’। তাঁর এই স্লোগান ও নির্বাচনী প্রচারণা তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন রাজনৈতিক ও ইতিবাচক চর্চা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিপুল জনসমর্থন অর্জনে সহায়ক হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।


একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা থাকলেও প্রতিহিংসামুক্ত আচরণ এবং সাদামাটা জীবনযাপন দেশের সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। পাশাপাশি দেশ গঠনে বর্তমান নির্বাচনী প্রতিপক্ষের প্রতি শালীন তির্যক যুক্তি উপস্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অসামান্য শ্রদ্ধাবোধ তাঁকে সর্বমহলে ভিন্নমাত্রায় পরিচিত করেছে। এসবই তাঁর দলের বিশাল বিজয়ের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।


এখন দেখার বিষয়—তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের কয়েকজন মিত্রকে নিয়ে গঠিত আগামী সরকার প্রকৃতপক্ষে কেমন বাংলাদেশ উপহার দেয়।
শুভকামনা তারেক রহমান ও আগামী বাংলাদেশ সরকারকে।

রোজবার্তা


More News Of This Category