• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ২ সালথায় ইউথ স্টারস ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন: দাদু ভাই একাদশ বিজয়ী মুকসুদপুরে চার গ্রামের তরুণদের মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পি কে এইচ যুব সংগঠন মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপ হেলপার নিহত মুকসুদপুরে আদম ব্যবসায়ী ফরিদুলের খপ্পরে অসহায় পরিবার; থানায় অভিযোগ মুকসুদপুরে সড়কের পাশের গাছ যেন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে ৩২ পরিবার মুকসুদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি মুকসুদপুরে প্রভাষক অমল কৃষ্ণ দাসের বাসার তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি মুকসুদপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু মুকসুদপুরে দুটি বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০

সরকারের দুই মাস

Published সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

রোজবার্তা উপসম্পাদকীয় | মোজাহিদ মহসিন ইমন

​কারণে-অকারণে উস্কে ওঠা বাংলাদেশ গত দুই মাস বিশ্ব যুদ্ধাবস্থার জেরে জ্বালানি সংকটের তীব্র অসন্তোষ ও দেশের জাতীয় আয়ের বৃহৎ উৎস মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিবেশ সত্ত্বেও তেমন বড় কোনো বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি; এটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করা সরকারের জন্য একটি বিরাট সাফল্য। তার চেয়েও অধিক সফল এ দেশের সাধারণ মানুষ—যারা তীব্র গরম, হামের প্রাদুর্ভাব ও জ্বালানি সংগ্রহে মারাত্মক কষ্ট স্বীকার করেও নীরব ভূমিকা পালন করছেন এবং ধৈর্যের সাথে সরকারকে সময় দিতে মানসিকভাবে আরও কিছুদিন প্রস্তুত আছেন বলেই পরিলক্ষিত হয়।

​একথা অস্বীকারের উপায় নেই যে, বর্তমান বিরোধী পক্ষ বা ১১ দলীয় মোর্চা নানাবিধভাবে সরকারের কার্যক্রমের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসলেও কার্যত তারা সংসদে বা রাজপথে জোরালো কোনো অভিযোগ তুলে ধরতে সমর্থ হয়নি। অন্যদিকে, অতি অল্পে তীব্র লড়াইয়ের হুমকি দেওয়া বিরোধী শিবিরের দ্বিতীয় শক্তিটি বিরোধিতার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে কিঞ্চিৎ আনুকূল্য পাচ্ছেন বা পাবেন—এমন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে যাচ্ছেন বলেই আপাতদৃষ্টিতে ধরে নেওয়া সংগত।

​বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ মাত্র কদিন আগে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরেও তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা আন্দোলনের হুমকি দেখা যায়নি, যা এক প্রকার বিরল ঘটনা। সেই সাথে সরকার পক্ষ আওয়ামী লীগকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধমূলক আচরণ দেখাচ্ছে না। এমনকি আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ড. ইউনূসের আমলে হঠাৎ নামসর্বস্ব মিডিয়ায় সরব বক্তব্য রাখতেন, তারাও এখন নিজ নিজ অবস্থানে ম্রিয়মাণ।

​সব মিলিয়ে নতুন সরকার রাজনীতিকে সামনে না এনে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে এতটাই তৎপর যে, সরকার প্রধানের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি যেন ১৭৯ দিনেই বাস্তবায়িত হয়—এমন আগ্রহই দৃশ্যমান। বাকি ৪ বছর ৯ মাস যেন তারা সেসব লক্ষ্য পূরণ করে কাটাতে পারে, সেটাই এখন মূল উদ্দেশ্য।

​কতিপয় মন্ত্রী মহোদয় কথায় ও কাজে বেসামাল হলেও অধিকাংশ সদস্যই কর্মতৎপর এবং সাবধানী। দীর্ঘ লড়াই ও নির্যাতনের পর দলের জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা অনেকটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করছেন। সেই সাথে সরকার পক্ষ পররাষ্ট্রনীতিতে একক নির্ভরতা কাটিয়ে উঠছে, যা একটি ইতিবাচক দিক।

​অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়ন করার সময় এখনো পর্যাপ্ত না হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে সরকারের অধিক লক্ষ্য জননিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং ব্যয় সংকোচন নীতির ওপর। তারা নতুন হাসপাতাল বা স্কুল নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর সংস্কার ও সেবার মান বৃদ্ধির ব্যাপারে অধিক আগ্রহী।

​তথাপি রাজনৈতিকভাবে বিসিবি বোর্ড গঠন, অহেতুক জেলা প্রশাসক নিয়োগসহ অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যক্তিগত সহকারী, বিশেষ সহকারী কিংবা বিশেষ বিবেচনায় অন্যান্য কিছু প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ‘উপদেষ্টা’ নিয়োগ এড়িয়ে যাওয়া সংগত হতো।

​সর্বোপরি দেশ ভালো আছে। ঈদ ভালো কেটেছে। আগামী কোরবানির ঈদ আরও ভালো যাবে এবং সার্বিকভাবে দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। দলীয় কার্যক্রম স্তিমিত হওয়ায় নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এসবের পরেও দেশে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন সংকুচিত। নিরপরাধ বা জামিনযোগ্য একটি বিরাট অংশ এখনো কারাভোগ করছে এবং অহেতুক হয়রানি থেকে বাংলাদেশ এখনো মুক্ত হতে পারেনি।

​শুভকামনা রইল তারেক রহমানের জন্য, যিনি নিজেকে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতিকে পরিবর্তনের পথ দেখাচ্ছেন। এটাই আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় অর্জন।

​আল্লাহ সহায় হোন।


More News Of This Category