কৃষি

বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ

পাটের আঁশের পর পাটকাঠিতেও লাভবান মুকসুদপুরের কৃষক

পাটকাঠির মূল্য ও চাহিদা বাড়ায় কৃষকদের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহও বাড়ছে
পাট

একসময় পাটকাঠিকে কৃষকের কাছে ফেলনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে এর গুরুত্ব। জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া-ছাউনি তৈরির কাজে ব্যবহৃত সেই পাটকাঠিই এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় এর মূল্যও বেড়েছে।

সোনালী আঁশের জন্য খ্যাত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। পাট থেকে আঁশ সংগ্রহের পর কৃষকেরা পাটকাঠি শুকিয়ে সংরক্ষণ করছেন। বাড়ির আঙিনা কিংবা খোলা জায়গায় সারি করে রাখা হচ্ছে এসব পাটকাঠি। ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক তাৎক্ষণিক বিক্রি না করে অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুনঃ মুকসুদপুরে ২৬ বছরেও নির্মিত হয়নি স্থায়ী ভাগাড়

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও পাটকাঠি নিয়ে তেমন আগ্রহ ছিল না। অনেক ক্ষেত্রেই পাটকাঠি বাড়ির আঙিনায় পড়ে থেকে নষ্ট হতো। বর্তমানে এর চাহিদা বাড়ায় কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও আয় করছেন।

মুকসুদপুরের নারায়ণপুর গ্রামের পাটচাষি জাকির মোল্যা বলেন, আগে পাটকাঠি বাড়ির আঙিনায় পড়ে থেকে নষ্ট হতো। এখন এর চাহিদা বেড়েছে এবং ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পর পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন এক কৃষক।
পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পর পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন এক কৃষক।

পশারগাতী গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আগে পাটকাঠির কোনো কদর ছিল না। তাই অনেক সময় ফেলে দেওয়া হতো। এখন পাটকাঠির দাম ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে। সময় নিয়ে বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভ পাওয়া যায়।”

আরও পড়ুনঃ দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন কামাল মিয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকসুদপুরের বাটিকামারী ইউনিয়নের চারকোলা মিলে পাটকাঠি প্রক্রিয়াজাত করে ছাই ও কার্বন তৈরি করা হচ্ছে। এসব উপাদান বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি উৎপাদিত কার্বনের একটি অংশ বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। ফলে পাটকাঠির অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ পাটকাঠি পাওয়া যাবে এবং কৃষকেরা এর ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, পাট উৎপাদনে দেশের মধ্যে গোপালগঞ্জের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। জেলার মধ্যে মুকসুদপুরে পাটের আবাদ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।

একসময় যে পাটকাঠি কৃষকের কাছে ছিল অবহেলিত ও মূল্যহীন, বাজারের চাহিদা বাড়ায় এখন সেটিই পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যে। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও আয় বাড়ায় কৃষকদের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।

সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

এ বিভাগের আরও সংবাদ