রাজনীতি

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক: আ স ম রব

আরও পড়ুন

রোজবার্তাঃ

শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। ৮১ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ নেতা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা সরকারের জন্য কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

​মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জেএসডির দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আ স ম রবের এই বক্তব্য গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

​জনগণের সার্বভৌমত্বই শেষ কথা

​বিবৃতিতে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম রব বলেন, “সংবিধান জনগণের সৃষ্টি; জনগণ সংবিধানের সৃষ্টি নয়। রাষ্ট্রের সকল বৈধতার উৎস হলো জনগণের ইচ্ছা। ফলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তাকে উপেক্ষা, স্থগিত বা বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ সরকারের নেই।”

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই রায় বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা বা দেরি করা কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি সরাসরি জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতি অমর্যাদা। এটি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী কাজ হিসেবে গণ্য হবে।

​‘জুলাই সনদ’ ও সরকারের বাধ্যবাধকতা

​জেএসডি সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন যে, “জুলাই সনদ”-এর অভিপ্রায়কে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এখন আর কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। এটি অবিলম্বে পালনীয় একটি রাষ্ট্রীয় কর্তব্যে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার একে সদিচ্ছা বা সুবিধাবাদের চশমায় দেখলে ভুল করবে।

​জেএসডির দাবি ও প্রস্তাবনা

​বিবৃতিতে আ স ম রব সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরেন:

  • বাধ্যতামূলক সময়সূচি: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ স্পষ্ট করে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে।
  • অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া: এই প্রক্রিয়াকে কেবল দলীয় নিয়ন্ত্রণে না রেখে সংসদ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।
  • সাংবিধানিক সংকট এড়ানো: অতিসত্বর জুলাই সনদকে সংবিধানের অংশ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্র গভীর সংকটে পড়বে এবং সরকার জনগনের মুখোমুখি দাঁড়াবে।

​সবশেষে আ স ম রব সতর্ক করে বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। সেই রায়ের প্রতি নিঃশর্ত সম্মান প্রদর্শনই হলো রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শৃঙ্খলার মূল ভিত্তি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ