রোজবার্তা: নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি বেশ উঁচু গলায় বিষয়টি অল্প কথায় বোঝাতে চেষ্টা করতেন। তবে স্বভাবতই যা দেখা যায়—অতীতে সব সরকার বা দলীয় প্রধানের চূড়ান্ত বক্তব্যের আগে, পূর্ববর্তী বক্তাগণ নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে হোক বা শীর্ষ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই হোক, প্রিয় নেতার স্তুতি ও প্রস্তাবগুলো নিজেরাই আগেভাগে প্রকাশ করে গৌরব বোধ করতেন। এর ফলে দলীয় প্রধানের বক্তব্যের মূল অংশ অগ্রিম প্রকাশ পেয়ে যেত। তাই প্রধান অতিথির বক্তব্যে নতুনত্ব খুব একটা না থাকলেও, ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং রাজনৈতিক তীব্র ও ধারালো ফলার কারণে বিগত দিনে খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা, এমনকি অল্পবিস্তর এরশাদ সাহেবের ক্ষেত্রেও বক্তব্য প্রাসঙ্গিকতার মানদণ্ডে নয়, বরং ব্যক্তিত্বের উচ্চতায় সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে মঞ্চে উপবিষ্ট তাবড় তাবড় নেতাদের কাছেও বিস্ময়কর মনে হতো। দলীয় নেত্রীরা যখনই বলতে শুরু করতেন, তখন উপস্থিত অন্য নেতারা ইচ্ছায় হোক বা স্বভাবগত কারণে—নিজেদের গুছানো বক্তব্যকেও অমূলক মনে করতেন।
অন্য অনেক ক্ষেত্রের মতো এক্ষেত্রেও তারেক রহমান ব্যতিক্রম। নির্বাচনী প্রচারে দেখা গেছে, তাঁর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ছিল সামান্য ও সুনির্দিষ্ট। সাধারণত তিনি যে এলাকায় যেতেন, সেখানকার প্রার্থী এবং জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের দুই-একজন নেতা কেবল তাঁর সাথে থাকতেন। অর্থাৎ, অতীতের মতো সমগ্র দলের সব শীর্ষ বা জাঁদরেল বক্তাকে একত্রে করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে দেখা যায়নি তাঁকে। যার ফলে জনসভাগুলো ছিল তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয়; যা সমানভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া তারেক রহমানের বলবার জন্য নির্ধারিত কথাগুলো কেবলমাত্র তিনিই বলতেন, যার ফলে পুরো বক্তব্যটাই শ্রোতাদের কাছে নতুন মনে হতো।
এই গাছ নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে ও পরে অনেক টেলিভিশন বক্তা “বাংলাদেশ জঙ্গলে পরিণত হবে” কিংবা “এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অযোগ্য এবং এটি কেবলই একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি”—বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্তত তাঁরা এই গাছ নিজে না গুনে স্বীকার করবেন না যে, ২৫ কোটি বৃক্ষ আদৌ রোপণ করা সম্ভব কি না!
যাই হোক, সরকারি হিসাব মতে গত চার মাসে এখন পর্যন্ত ৮৫ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। বাকি সাত মাসে ৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্য রয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক সূচনা আগামীকাল। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কোনো বাড়তি বরাদ্দ নেই—না সরকারি পর্যায়ে, না বেসরকারিভাবে। অর্থাৎ, এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রম ও সদিচ্ছা-প্রণোদিত। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যুবসমাজসহ নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ওপর বৃক্ষ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কিছুটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মর্মে উল্লেখ আছে।
সুতরাং, যে বোধ থেকেই হোক না কেন, গাছ লাগানোর বিকল্প গাছ কাটা নয়; বরং আরও বেশি বেশি গাছ লাগানো। আর প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিত—রোপিত গাছ যে-ই লাগিয়ে থাকুক না কেন, তা রক্ষণাবেক্ষণ ও সফল করার দায় সবার সমান।