রোজবার্তা: ব্যয়সংকোচন নীতি বাস্তবায়নের পথ ধরে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও অধিদপ্তরসমূহে অপব্যয় এবং অপব্যবহার রোধে বেশ তৎপর বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় উপসচিব বা তাঁর ঊর্ধ্বের কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি বাবদ নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে বরাদ্দ ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৩০ লক্ষ টাকা সুদহীন ঋণ পাওয়ার সুযোগ স্থগিতকরণসহ যানবাহনসংক্রান্ত যাবতীয় বিধিনিষেধ ও দাপ্তরিক প্রয়োজন ব্যতীত গাড়ি ব্যবহার না করার জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। গতকাল সোমবার, ১৪ জুলাই এ সম্পর্কে সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সত্যিকার অর্থে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের নানা রকম সুযোগ-সুবিধা এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনা খাতে যথেচ্ছ অর্থ অপব্যয় থেকে বের হওয়ার কৌশলে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিতি, অহেতুক বাইরে না যাওয়া, সচিবালয়সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরে দর্শনার্থীর চাপ কমানো এবং আপ্যায়ন ও দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা দেখিয়েছে বর্তমান সরকার।
তা ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণ, নানাবিধ প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনে যোগদানসহ প্রায়শই প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে পরীক্ষামূলক বৈদেশিক পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও সরকার চূড়ান্ত কঠোর। এসব বিষয়ে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ‘অতি জরুরি ও বিকল্পহীন অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হলে, তাও খুব সীমিত পরিসরে, সংক্ষিপ্ত সময়, স্বল্প ব্যয় এবং সুনির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তাদের বিদেশ গমনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে’। সেই সঙ্গে প্রত্যাবর্তন-পরবর্তী লব্ধ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখিত ব্যাখ্যা এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা অধিকাংশ কর্মকর্তার অহেতুক বিদেশ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করেছে।
যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি আমলাদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।