গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর, সদর ও কাশিয়ানী উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন নদীতে ডুবে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অপর দুজনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের সর্দ্দি এলাকার কুমার নদ থেকে মিজানুর রহমান খলিফা (৬২) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেব জানান, শনিবার পাট ধোয়া শেষে কুমার নদ সাঁতরে পার হওয়ার সময় পানিতে তলিয়ে যান মিজানুর রহমান। স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রোববার সকালে ভট্টাচার্য্যকান্দি এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মিজানুর রহমান ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বিবিরকান্দি গ্রামের মৃত রশিদ খলিফার ছেলে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে রোববার দুপুরে সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে শান্ত মোল্লা (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, নেশা করার জন্য টাকা না দেওয়ায় রাতের কোনো একসময় ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেন শান্ত। সকালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সদর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শান্ত মোল্লা কাজুলিয়া গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে।
এর আগে শনিবার বিকেলে কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের শাফলীডাঙ্গা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে বাবুল মিয়া (৫৩) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম জানান, কয়েক বছর আগে বাবুল মিয়া হিন্দু ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, মাদকাসক্তির কারণে হতাশা থেকে বাবুল আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।





