জন্ম ঢাকায় হলেও পৈতৃক শিকড় গোপালগঞ্জে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত নাম এএসএম রকিবুল হাসান। ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের শুরুর সময়ের নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০২৩ সালে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৬৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় রকিবুল হাসানের। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান জাতীয় দলের সম্ভাব্য খেলোয়াড় হিসেবে আলোচনায় এলেও টেস্ট দলে খেলার সুযোগ পাননি। তবে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ঢাকায় পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজে তিনি পাকিস্তান দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় ছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে রকিবুল হাসানের সাহসী একটি ঘটনা আজও ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয়। পাকিস্তান দলের হয়ে খেলতে নেমে ব্যাটে ‘জয় বাংলা’ স্টিকার লাগিয়ে মাঠে নামেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাঁর প্রতিবাদী প্রকাশ।
২৫ মার্চের পর পাকিস্তানি সেনাদের ‘শুট অ্যাট সাইট’ তালিকায় তাঁর নাম ওঠে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যান তিনি। পরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং স্বাধীন বাংলা ক্রিকেট দল গঠনের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব আজাদ বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মুশতাককে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে। সেই ঘটনার স্মৃতিও রকিবুল হাসানের জীবনে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট পুনর্গঠনে রকিবুল হাসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর মতে, ক্রিকেটের উন্নয়নে শুধু বড় স্টেডিয়াম নয়, প্রয়োজন বেশি বেশি খেলার মাঠ। স্কুল ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান প্রজন্মের সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালসহ ক্রিকেটারদের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে রকিবুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি।
ক্রিকেট ও মুক্তিযুদ্ধ—দুই ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে থাকা রকিবুল হাসান আজও বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। গোপালগঞ্জের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক শিকড়ও তাঁকে জেলার ক্রীড়া ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে।





