নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ৬টা নাগাদ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি এবং তাঁর চিকিৎসকরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি ও হার্টের জটিলতাসহ নানা বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

গত নভেম্বর মাস থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হতে থাকে। ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং ১১ ডিসেম্বর তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে (লন্ডন) নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে কাতার থেকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও আনা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেডিক্যাল বোর্ড তাকে ছাড়পত্র দিতে পারেনি। মৃত্যুর আগমুহূর্তে তাঁর বড় ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর পাশে ছিলেন, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত সপ্তাহে (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি তিনবার (১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে আসেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি লাভ করেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।