রোজবার্তাঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইরানের এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বিমান চলাচল সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য। চলমান যুদ্ধের ফলে কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত প্রবাসীরা জীবন নিয়ে শঙ্কিত। কুয়েত থেকে প্রবাসী মাহফুজ রাকিব বিবিসি বাংলাকে জানান, “একটু পরপর সাইরেন বাজছে, মাথার ওপর দিয়ে মিসাইল যাচ্ছে। আমাদের বাসার ঠিক ওপরেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে মিসাইল প্রতিহত করা হচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।”
কাতারে কর্মরত এক নির্মাণ শ্রমিক জানান, হামলা শুরুর পর প্রথমে কাজ চালু থাকলেও পরে মিসাইল হামলা বেড়ে যাওয়ায় গত তিনদিন ধরে সব ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যা শ্রমবাজারের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও শ্রমবাজারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর রয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন:
”মন্ত্রণালয় প্রতিটি দেশের দূতাবাসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন সংকটে না পড়েন এবং শ্রমবাজারে এর প্রভাব যেন ন্যূনতম থাকে, সেই চেষ্টা সরকার করছে।”
এদিকে, যুদ্ধের ভিডিও বা লাইভ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার না করার জন্য বেশ কিছু দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়াতে এবং স্থানীয় আইন মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা