রোজবার্তা:
আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। দেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে বিশ্বব্যাপী এই ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিল যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই ধারণা আজ বাস্তবে রূপ পেল—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একমাত্র যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন—এমন বিশ্বাস আরও ২০ বছর আগে থেকেই বিএনপির লাখো নেতাকর্মীর মধ্যে ছিল। তবে বাস্তবিকপক্ষে বিষয়টি কতটা সম্ভবপর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল গত দেড় বছর আগে পর্যন্ত, যখন দেশটি শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বাধীন শাসনের অধীনে ছিল এবং তিনি তারেক রহমানের অন্যতম প্রধান সমালোচক ছিলেন।
দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডসহ নানা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা যেন দেশে ফিরতে না পারেন এবং কখনো আইনি বাধা অতিক্রম করে দল ও নেতৃত্বে ফিরে আসতে না পারেন। কিন্তু ইতিহাস কখনো সব পথ বন্ধ করে রাখে না; প্রয়োজনে নিজেই নিজের পথ তৈরি করে নেয়। আজ তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনার বিদায় এবং পরবর্তী দেড় বছরের নানা চড়াই-উতরাই শেষে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন লাভ করে। এর ফলে অনিবার্যভাবে ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।