রোজবার্তা:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন আশরাফুল আলম শিমুল মিয়া। তিনি এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে কারারুদ্ধ অবস্থায় ২১,২৭৬ ভোট পেয়ে নয়জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। যা জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে কম এবং বিজয়ী বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌরসভার সর্বশেষ মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল অতীতে তিনটি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে নিজেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের কিছুদিনের মাথায়, ৭ জানুয়ারি তিনি গ্রেপ্তার হন। তার নির্বাচনী ফলাফল অনেককে বিব্রত করেছে। যদিও রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করেননি যে তিনি এবার বিজয়ী হবেন। তাদের মতে, এবারের নির্বাচনে শিমুল মিয়ার অংশগ্রহণ ছিল অপ্রয়োজনীয় ও তাড়াহুড়োপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
তার পরিচিত সমর্থকগোষ্ঠীর অধিকাংশই আগে থেকেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় থাকায় তিনি নির্বাচনে কর্মীসংকটে পড়েন। এছাড়া তার গ্রামবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতাও তেমনভাবে লক্ষ করা যায়নি, যা তাকে শুরু থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচনে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে।
জীবনে প্রথমবারের মতো কারাবরণকারী আশরাফুল আলম শিমুল পূর্বে নির্বাচনী মাঠে কৌশলী ও সফল হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় সুসংগঠিত কাঠামো ও দক্ষ পরিচালনার অভাব পরিলক্ষিত হয়। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে তার ছেলের ভোট প্রার্থনা প্রাথমিকভাবে আলোচনার বিষয় হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়নি। এছাড়া তার ভাইসহ সমর্থকদের ওপর হামলাসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তার পরিবারের অভিযোগ। এসব কারণই তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে তার সমর্থকগোষ্ঠী এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।