বাদশাহ মিয়া:
নৈতিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা জাহিদুর রহমান মুন্সিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সূত্র জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদরাসা চলাকালীন সময়ে ছাত্রদের (ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায়) বাইরে নিয়ে গিয়ে মোসাম্মাৎ বেবী বেগম (৫০) ও তার মেয়ে বন্যা মৃধা (২১)-এর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ ঘটনায় মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও দাখিল পরীক্ষার্থী মো. রাসেল মাতুব্বরের পিতা হেমায়েত মাতুব্বরও সুষ্ঠু বিচার দাবি করে সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া এক শিক্ষার্থী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সভাপতির নিকট বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৬ মার্চ এক জরুরি সভায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির উপস্থিতিতে সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিনে তিনি যে জবাব প্রদান করেন, তা অসন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরখাস্তের আদেশ জারি করেন।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন তিনি মাদরাসার কোনো প্রশাসনিক বা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
জানা যায়, মাওলানা সাইফুল ইসলাম মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পরবর্তীতে মাদরাসায় আলিম শাখা চালু হলে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।