• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ২ সালথায় ইউথ স্টারস ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন: দাদু ভাই একাদশ বিজয়ী মুকসুদপুরে চার গ্রামের তরুণদের মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পি কে এইচ যুব সংগঠন মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপ হেলপার নিহত মুকসুদপুরে আদম ব্যবসায়ী ফরিদুলের খপ্পরে অসহায় পরিবার; থানায় অভিযোগ মুকসুদপুরে সড়কের পাশের গাছ যেন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে ৩২ পরিবার মুকসুদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি মুকসুদপুরে প্রভাষক অমল কৃষ্ণ দাসের বাসার তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি মুকসুদপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু মুকসুদপুরে দুটি বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০

মুকসুদপুরে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ

Published রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ):

​গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের বাগাটে একটি নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৩৮) তাঁর পৈতৃক জমির ওপর ‘রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ অ্যান্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই নির্মাণকাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ তাঁর নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। অভিযুক্তরা হলেন—সিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ফজলুল হক শেখ, আজিজল শেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন।

ক্ষয়ক্ষতি ও দাবির বিবরণ

​শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় তারা নির্মাণাধীন ভবনের টাইলস ভাঙচুর করে এবং প্রায় ৩ টন রড জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

​তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ১৯৮২ সালে সরোয়ার মুন্সীর নিকট থেকে ৬৪০৬ নং দলিল মূলে সাড়ে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে কারচুপির মাধ্যমে বিআরএস রেকর্ডে ১৩ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত করে নেন। দলিলে স্পষ্ট লেখা রয়েছে তিনি পশ্চিম পাশ থেকে ভোগদখল করবেন এবং এখন পর্যন্ত সেভাবেই করছেন। অথচ বর্তমানে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প ছড়াচ্ছেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য

​স্থানীয় কয়েকজন জানান, সম্প্রতি দিগনগর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামের ফজলু শেখ ও আজিজল শেখসহ কিছু ব্যক্তি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে। কর্তৃপক্ষ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

​তাঁরা আরও বলেন, এলাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা উদ্বেগজনক। গ্রামীণ পর্যায়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হলে স্থানীয় বেকার যুবকরা কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হবে।

অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলু শেখের মোবাইল নাম্বারে কল দিলে তাঁর ছেলে বলেন, “এখানে এই দাগে আমরা জমি পাব, তাই কাজে বাধা দিয়েছি। চাঁদা দাবির বিষয়টি সঠিক নয়।”

​মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এলাকায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি জমি সংক্রান্ত এবং এ নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলছে, তাই এ বিষয়ে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।”


More News Of This Category