বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ চরম সেবা-বঞ্চিত হচ্ছেন। ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো থমকে যাওয়ায় ভোগান্তি এখন চরমে।
বিপাকে ১৫০০ আবেদনকারী
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে জমা পড়া অন্তত ১৫০০ নামজারি (মিউটেশন) আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আবুল হাসনাত বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই পদটি শূন্য। ফলে নামজারি ছাড়াও ভূমি সংক্রান্ত বিবিধ মামলা (মিসকেস) ও আদালত-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আর্থিক ও সামাজিক সংকট
জমি কেনাবেচা করলেও নামজারি সম্পন্ন না হওয়ায় অনেক ক্রেতা মালিকানা বুঝে পাচ্ছেন না। এতে আর্থিক লেনদেন ও দলিল হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী জিনাত হোসেন ও সুজন শেখ বলেন:
”অনেক দিন আগে জমি কিনেছি, কিন্তু নামজারি না হওয়ায় জমির কোনো কাজ করতে পারছি না। বারবার ভূমি অফিসে এসেও কেবল আশ্বাস নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।”
বেড়েছে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন
এসিল্যান্ড না থাকার সুযোগে উপজেলায় মাটি ও বালু খেকো চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিয়মিত বাজার তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বেড়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই পদে কাউকে নিয়োগ না দিলে জনভোগান্তির পাশাপাশি প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের একটি সূত্র জানায়, এসিল্যান্ড না থাকায় মামলার জট তৈরি হয়েছে, যা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির বলেন:
”নামজারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নেই, এটি চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি দপ্তরের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। এর মাঝেও জ্বালানি তেলের বাজার মনিটরিং এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। জনগণের ভোগান্তি কমাতে আমি নিজে বাড়তি সময় দিয়ে নামজারি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
দ্রুত এসিল্যান্ড নিয়োগ দিয়ে এই অচলাবস্থা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন মুকসুদপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।