রোজবার্তা (আন্তর্জাতিক) : বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গ ! আবারও বলছি ‘বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ’! পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’র নয়। ফলত প্রায় সকল সংবাদ ও সম্প্রচার মাধ্যম ফলাও করে প্রচার করছে ‘বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ দখল’ বা ‘ পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়’ ! বিষয়টা তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বসে বললেও এর পিছনের ও সামনের কার্যকারণ সাংঘাতিক।
যদিও পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অপরাপর রাজ্যের মতো। তবু এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল বাঙালীয়ানা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্বকীয় সত্তা। আর এই তিন বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণ বিপরীত বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন তার ‘দখল’ কেই নির্দেশ করে বিজয় কে নয়।
নির্বাচনে জয়পরাজয় স্বাভাবিক হলেও উপমহাদেশ জুড়ে জয় মানে যা ইচ্ছে তাই করবার অবাধ স্বাধীনতা আর পরাজয় বলতে মৃত্যুর চেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের ভারতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এক দশক আগেও রাজনীতির যে পরিবেশ, প্রেক্ষাপট ও প্রয়োগ পদ্ধতি ছিল ইদানীং তার কিছুমাত্র আর অবশিষ্ট নেই। যেটুকু ছিল তারও কবর রচিত হলো এবারে মমতা পতনের মধ্যদিয়ে। সাধারনত নির্বাচনে বিজয় কে কেউ যেমন দখল বলে না৷ এক্ষেত্রে বলছে। তদ্রূপ মমতার পরাজয় কে সবাই পতন বলছে। কারন আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং একছত্র বিজেপি বিরোধী মুখ যে মমতা। আর তার এই পরাজয়ের জের ধরে রেখে আবার মসনদ পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব বলেই এটি শুধুমাত্র পরাজয় না পতন। এক্ষেত্রে স্পষ্টত্ব পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল জামানার ধ্বংসের মধ্যে সমগ্র ভারতবর্ষ বিজেপির দখলদারিত্ব কায়েম হল এটাই মূখ্য বিষয়। বাকি যে ছিটেফোঁটা তা রঙ নয় দাগ। ঢলা দিলেই উঠে যাবে বা অনেকক্ষেত্রে হয়তো তারও আগে। এখন পর্যালোচনার বিষয় এই যে, নিখিল বিজেপির ভারত জুড়ে কেন্দ্রে ও রাজ্যে ক্ষমতা আহরণ তো হলো, তারপর, তারপর… তারপর কি !
ভারতে হিন্দুত্ববাদ কায়েম হবে, গনতন্ত্র ও দেশের সংহতি দৃঢ় হবে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাধ্যমে উন্নয়ন হবে, দেশে সবকা সাথ সাবকা বিকাশ’ হবে… না, এসবের কিছুই হবেনা। বিজেপি বিরোধীরা আরও দূর্বল হবে আর বিজেপি সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতেই পৌঁছাতে নিশ্বাসের দিকে এগোবে। কারন ভারত বাসীকে বিজেপির প্রয়োজনীয়তা আর নতুন করে বোঝানোর বা দেখানোর কিছু থাকবে না। মানে তারাও অচিরেই হয়ে যাবে নেতৃত্ব ও উদ্দেশ্য শূন্য মস্তবড় এক হস্তি। যা দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই কিন্তু কেউ না বসালেও একাকী নিজে থেকে একসময় বসে পরবে। আর যে বসা তো বসা তা থেকে তার আর উঠে দাড়ানো হবে না। কারন যে ইন্দিরা, মমতা, লালু আর অরবিন্দ নামক খুটি গুলির উপর ভর করে বা তাদের ভয় দেখিয়ে হাতিটি দাঁড়া করানো হতো তারা যে আর খুটির পর্যায়ে নেই। আর খুটি না থাকা ঘর যেমন, পা ভর তুলে না দাঁড়ানো হাতিও তদ্রূপ। যা একসময় উর্ধ্বে উঠা দূরে থাক ক্রমশ ডুবতে থাকে। তেমনি বিজেপির পতন ধরা যায় মমতার পরবর্তী ১০ বছরে বা তারও আগে কি আর না হয় কিছুদিন পরে। কিন্তু তা শুধুমাত্র পরাজয় হবে না, পতনও হবে না হবে, গর্তে তলাতে তলাতে অস্থিমজ্জা বিলীন হয়ে যাওয়া জৈব্য। যা বৃষ্টি পেলেই জন্মে উঠবে সবুজ ঘাসের কচি ডগা আর তার নাম হবে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ ফৌজ আর নেতা হবেন সদ্য স্কুলে পড়া কোন এক সুভাষ চন্দ্র বোস যিনি কলমের পিছনটা কামড়াতে কামড়াতে ভাবছেন ‘ওদের কেন সামনে বসতে দেয় না, ওরা মুসলিম, দলিত, মতুয়া বা যাদব বলে’ না তা হয় না, হতে দেয়া যায় না… না, না, না !