রোজবার্তাঃ
রহমত ও মাগফিরাতের দিনগুলো পেরিয়ে পবিত্র রমজান এখন শেষ দশকে। ইসলামের পরিভাষায় এটি ‘নাজাত’ বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়। এই ১০ দিনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে হাজার মাসের চেয়েও সেরা রাত ‘লাইলাতুল কদর’। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনগুলোতে বিশেষ কিছু আমল পালনে সচেষ্ট থাকেন।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, শেষ দশকের প্রধান আমলগুলো হলো:
২০ রমজান সূর্যাস্তের আগে থেকে মসজিদের পবিত্র পরিবেশে অবস্থান নেওয়াকে ইতিকাফ বলে। দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল ইবাদতে মগ্ন হওয়াই এর মূল লক্ষ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন।
শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে) শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই মুমিনরা এই রাতগুলোতে ঘুমের চেয়ে ইবাদতকে বেশি গুরুত্ব দেন। দীর্ঘ সময় ধরে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে এই রাতগুলো অতিবাহিত করা হয়।
এই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী আমল হলো দোয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনগুলোতে বেশি বেশি এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন:
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।” (অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।)
রমজানের ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বেশি। তাই শেষ দশকে সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এছাড়া ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে রমজান শেষ হওয়ার আগেই সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে অভাবী মানুষরাও ঈদের উৎসবে শামিল হতে পারে।
রাতের শেষাংশ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত নাজিল হওয়ার বিশেষ সময়। এই সময়ে দীর্ঘ সেজদা ও দীর্ঘ কিরাতের মাধ্যমে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় এবং নিজের ও মুসলিম উম্মাহর জন্য চোখের পানিতে মোনাজাত করা এই দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন ইবাদত করতেন, তেমনি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। তাই নিজে আমল করার পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আল্লাহমুখী হওয়া এই সময়ের অন্যতম সুন্নাহ।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মতে, নাজাতের এই ১০ দিন হলো বিগত দিনের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার শেষ সুযোগ। মহান আল্লাহ তায়া’লা আমাদের সবাই কে বেশি বেশি এই আমল গুলো করার তৌফিক দান করুন, আমিন।