রোজবার্তাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সংসদ সদস্যরা এখনো শপথ নেননি। ক্ষমতা হস্তান্তরের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রস্তুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাংসদদের শপথের পর নতুন মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন। এসবের মধ্যেই নবগঠিত সরকারের প্রতি নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে সংসদের বিরোধী দল হতে যাওয়া ১১ দলীয় জোট।
সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের প্রধান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনের ফল মেনে নিলেও কয়েকটি আসন চিহ্নিত করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন। জোট নেতারা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও আদালতে যাওয়ার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, নির্বাচন-পরবর্তী হামলা বা নৈরাজ্যের বিষয়ে সরকার পক্ষ ও বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজপথে নামার হুমকিও দেন তিনি।
১১ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শপথের আগেই একাধিকবার সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তার দলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের ফলাফল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচিত হতে না পারা জোটের একাধিক নেতা—বাংলাদেশ খেলাফত ইসলামের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের শিশির মনির এবং এনসিপির সারজিস আলমসহ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী—নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ইতোমধ্যে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং জামায়াতের শিশির মনির নতুন মন্ত্রিসভার বিপরীতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে, দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে শিবিরের প্রাধান্য থাকায় তারাও জ্বালাময়ী বক্তব্য ও কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার গঠনের আগেই নানা চাপে রয়েছে নতুন সরকার।