নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের চারজন সংসদ সদস্য (এমপি)। তারা বলেছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না।
হাউস অব কমন্সের এই চার এমপি হলেন— বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জ্যাস আথওয়াল এবং ক্রিস ল। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
বিবৃতিতে বলা হয়,
“নৈতিক বিবেচনাবোধসম্পন্ন প্রত্যেক মানুষই আশা করেন, এই নির্বাচন একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে তা তখনই সম্ভব, যখন নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ।”
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং একই সময়ে দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এই প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ এমপিরা তাদের বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন,
“আমরা উদ্বিগ্ন যে, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তারা ভোটকেন্দ্রে যেতেই উৎসাহ হারাবেন।
চার এমপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন,
“সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। বাংলাদেশের ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সমীচীন হয়নি, যারা নিজেরাই অনির্বাচিত।”
বাংলাদেশের রাজনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে ‘চরমভাবে বিভক্ত’ বলে মন্তব্য করে তারা বলেন, এই বিভক্তির জন্য সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে দায়ী। তবে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি পুনরুদ্ধারে ভবিষ্যৎ সরকারকে অবশ্যই জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিরোধী দলগুলো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবে।”
যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে চার ব্রিটিশ এমপি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচার ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
শেষে তারা ব্রিটিশ সরকারসহ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেন গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তার অঙ্গীকার বজায় রাখেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করেন এবং একটি মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করেন।”
সুত্রঃ বিডিনিউজ২৪