রোজবার্তাঃ
রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। মাছ-মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, ছোলা, খেজুর, লেবু ও বিভিন্ন ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান এলেই চাহিদা বাড়ার কারণে দাম বাড়ার পুরনো প্রবণতা এবারও দেখা যাচ্ছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে যে লেবুর হালি ২০–৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা ৭০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকা হালির লেবু ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাড্ডার খুচরা বিক্রেতা মো. হারুন বলেন, “লেবুর মৌসুম না হওয়ায় সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে। মৌসুম শুরু হলে দাম কমবে।”
তবে মহাখালী কাঁচাবাজারের ক্রেতা আফজাল খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোজার এক মাস আগে থেকেই লেবু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এটি তো আমদানি পণ্য নয়। বাজারে তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি।”
শবেবরাতের পর থেকেই মাংসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে মানভেদে সোনালি মুরগি কেজি ৩১০–৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে বার্ষিক চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিক্রি হয়, ফলে আগাম চাপ তৈরি হয়।
মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যেও দাম বেড়েছে। দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০ টাকা, আদা ১৪০–১৮০ টাকা, ছোলা ৯০–১০০ টাকা এবং চিনি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৬০ টাকা কেজিতে উঠেছে।
শীতের মৌসুম শেষ হতে না হতেই বেড়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০–১৪০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৮০–১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, বেগুন ৬০–১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা এবং টমেটো ৫০–৬০ টাকা কেজি। লম্বা লাউ ৬০–৭০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০–৫০ টাকা এবং শিম ৫০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।