বাদশাহ মিয়া:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে কলেজছাত্র সিয়াম মোল্লার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে মুকসুদপুর উপজেলার বালিয়ারকান্দি বাজারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত সিয়াম মোল্লার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা খুনিদের ছবি ও ফাঁসির দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং বিক্ষোভ মিছিলে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সিয়ামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং তারা দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছে। আসামিরা যেন কোনোভাবেই পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
নিহতের মা শিউলি বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলেকে কোল থেকে ডেকে নিয়ে ওরা মেরে ফেলেছে। আমি ওদের ফাঁসি চাই।”
নিহতের চাচি রুমা বেগম বলেন, “আমাদের সন্তান কোনো অপরাধ করেনি। তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর তিন দিন লাশ গুম করে রাখা হয়েছিল। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিহতের চাচা শিপন মোল্লা বলেন, সিয়াম মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। অভি মুন্সি, সাজিদ, পারভেজ এবং দিদার তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। তিন দিন পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি পলাতক বাকি দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।
মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় নিহতের চাচা রিপন মোল্লা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিল মুকসুদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিয়াম। গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ঝুটিগ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, সিয়ামের কাছে থাকা আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই তার চার বন্ধু মিলে এই হত্যার পরিকল্পনা করে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ঝুটিগ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে দিদার (১৪) ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের টিটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজকে (১৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।