বিনোদন ডেস্কঃ
একটি সামাজিক সচেতনতামূলক অ্যাপের বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের কথা বলে পরে সেটিকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন অভিনেতা সোহেল তৌফিক। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে যে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করানো হয়, সেটি মূলত সাধারণ মানুষের দুর্নীতি, হয়রানি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রচারণা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। স্ক্রিপ্ট ও কাজের ধরন দেখে তিনি এটিকে একটি সামাজিক উদ্যোগ ভেবেই অংশ নেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন—ওই ভিডিওটি দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন।
এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে সোহেল তৌফিক বলেন,
“আমি কোনো রাজনৈতিক দলের বিজ্ঞাপনে কাজ করিনি। আমাকে যে প্রজেক্ট দেখানো হয়েছিল, সেটি ছিল একটি সামাজিক অ্যাপের জন্য। পরে জানতে পারি সেটি ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—যা আমার সম্মতি ছাড়া।”
তিনি আরও জানান, কোনো পর্যায়েই তাকে রাজনৈতিক প্রচারণার কথা জানানো হয়নি। বিষয়টি জানার পরই তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং স্পষ্টভাবে আপত্তি জানান।
অভিনেতা তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কাজে যুক্ত হতে চান না। শিল্পীদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এভাবে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কনটেন্ট ব্যবহারের ঘটনায় তিনি নৈতিকভাবে আহত বলেও উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় শিল্পীদের পাশাপাশি দর্শকরাও বিভ্রান্ত হন। বিজ্ঞাপন বা কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে তা শিল্পী ও দর্শক—উভয়ের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এদিকে আলোচনায় এসেছে যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকটি রাজনৈতিকভাবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত—যার কারণে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার দাবি তুলছেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।