রোজবার্তাঃ
আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন তাঁর সেই কালজয়ী মহাকাব্য—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
মাত্র ১৮ মিনিটের সেই ১৮ শ শব্দের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাংলার ৭ কোটি মানুষকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তার বজ্রকণ্ঠের সেই ভাষণ ছিল একদিকে যেমন রাজনৈতিক কৌশলে ভরপুর, অন্যদিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর এক জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা।
বঙ্গবন্ধু সেদিন ঘোষণা করেছিলেন:
“তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।”
এই ভাষণটি কেবল বাংলাদেশের সম্পদ নয়, এটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক নেতা ও বিশ্লেষক এই ভাষণকে আব্রাহাম লিংকনের ‘গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস’-এর সঙ্গে তুলনা করে থাকেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে নয়, বর্তমান প্রজন্মের কাছেও অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন শক্তি হিসেবে কাজ করে।
৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বজ্রকণ্ঠ আজও বাঙালির রক্তে শিহরণ জাগায়। ৭ই মার্চের সেই অমর বাণী আজও আমাদের প্রেরণা দেয় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার।