নিউজ ডেস্ক:
২০২৫ সালে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনার ভারতের বারবার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। আসকের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ২০২৪ সালে ছিল ৩০, ২০২৩ সালে ৩১, ২০২২ সালে ২৩ এবং ২০২১ সালে ১৮।
বিএসএফের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদের হাতেও বাংলাদেশিরা নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগের সীমান্ত এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে অন্তত ১২ জন বাংলাদেশি নিহত হন।
হত্যাকাণ্ড ছাড়াও ২০২৫ সালে সীমান্তে সহিংসতার মাত্রা ছিল উদ্বেগজনক। এ সময়ে অন্তত ৩৮ জন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ বা নির্যাতনের শিকার হন এবং ১৪ জনকে অপহরণ করে বিএসএফ। অপহৃতদের মধ্যে মাত্র চারজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে আসক জানিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের হাতে অন্তত ৪৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ভারত কর্তৃক ‘পুশ-ইন’-এর ঘটনায়। বিজিবি ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে ভারত অন্তত ২,৪৩৬ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ও রোহিঙ্গারাও রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ড্রোন উড়ানো, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা দুই দেশের সম্পর্ক এবং সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তে টানা প্রাণহানির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে।
সুত্র: নিউ এইজ