রোজবার্তা:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। কিন্তু তার প্রত্যক্ষ কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায়নি গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী সংসদীয় আসনগুলোর নির্বাচনী প্রচার, প্রচারণা ও আলোচনায়। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজে প্রচারাভিযানে পথসভা করলেও ভোটের মাঠে তেমন কোনো আলোচনার জায়গা নিতে পারেননি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মওলানা আব্দুল হামিদ। যদিও তিনি ৩৪,৬৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নয় প্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অতীতে গোপালগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সর্বশেষ অংশগ্রহণ ছিল প্রায় দুই দশক পূর্বে, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তখন তিনি ৫,২৩৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে কখনোই গোপালগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী বা তার সাংগঠনিক তৎপরতা খুব বেশি প্রত্যক্ষ ছিল না। যা এবারের নির্বাচনে কিছুটা লক্ষ করা গেলেও, প্রকৃতপক্ষে ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি তেমনভাবে আলোচ্য হয়ে ওঠেনি। দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি; অথবা এমনও হতে পারে, না আনা তাদের নির্বাচনী কৌশলের অংশ ছিল।
তবে একথা অনস্বীকার্য যে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বয়োবৃদ্ধ আলেম মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ সাহেবের গত এক বছরের নির্বাচনী মাঠে নিরলস ও সাদামাটা প্রচারণা, সহাস্য করমর্দন এবং নিরহংকার আচরণ সাধারণ মানুষের মনে দাগ ফেলেছে। যা ভোটের ফলাফলকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করেছে বলে অনেকের মত।