রোজবার্তাঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণাকালে কোনো প্রার্থীর কর্মী, সমর্থক বা পক্ষভুক্ত ব্যক্তি যদি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে বহন করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, অনেক প্রার্থীই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় দায় এড়াতে ‘কর্মীরা করেছে’—এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তবে এবার সে ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রার্থী নিজে সরাসরি জড়িত না থাকলেও তাঁর প্রচারণা টিমের যেকোনো অনিয়মের জন্য প্রার্থীই জবাবদিহির আওতায় থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পোস্টার ও ব্যানার লাগানোর নিয়ম ভঙ্গ, অনুমতি ছাড়া মিছিল বা শোডাউন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার—সবই আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়বে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের অপরাধে প্রার্থীর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা, জরিমানা, প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও ভাবছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলেন, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে প্রার্থীদের নিজ নিজ কর্মী ও সমর্থকদের ওপর কঠোর নজর রাখতে হবে। আচরণবিধি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রতি দায়িত্ববোধেরও প্রতিফলন।
এদিকে ইসির এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যায়।