• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মুকসুদপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ২ সালথায় ইউথ স্টারস ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন: দাদু ভাই একাদশ বিজয়ী মুকসুদপুরে চার গ্রামের তরুণদের মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পি কে এইচ যুব সংগঠন মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপ হেলপার নিহত মুকসুদপুরে আদম ব্যবসায়ী ফরিদুলের খপ্পরে অসহায় পরিবার; থানায় অভিযোগ মুকসুদপুরে সড়কের পাশের গাছ যেন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে ৩২ পরিবার মুকসুদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি মুকসুদপুরে প্রভাষক অমল কৃষ্ণ দাসের বাসার তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরি মুকসুদপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৫তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

Published শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

সোর্সঃ বাংলা ট্রিবিউন

আজ ১০ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানের কারাগারের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পূর্ণতা লাভ করে। এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে ৫৫তমবারের মতো।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৯ মাস তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। এ সময় প্রহসনের বিচারে তাঁকে ফাঁসির আসামি করা হয় এবং প্রতিটি মুহূর্ত তাঁকে মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে কাটাতে হয়।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতেই তাঁর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

দীর্ঘ ২৯০ দিন কারাবাস শেষে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। সেদিন ঢাকা ছিল উৎসবের নগরী। লাখো মানুষের ঢল নামে তৎকালীন ঢাকা বিমানবন্দর ও সেখান থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত। গোটা জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য।

স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু। দীর্ঘ ৯ মাসের গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের দুর্দশার কথা শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখর করে তোলে দেশের আকাশ-বাতাস।

সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন,

“যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালোবাসি—আমি জানতাম না, সে বাংলায় আমি আসতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।”

বঙ্গবন্ধুর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশের মানুষের মনে নতুন করে অনুপ্রেরণা ও আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়। তিনি নিজেই এই প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


More News Of This Category