নিউজ ডেস্কঃ
দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ভোট গণনার সময় কারিগরি সমস্যার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় ভোট গণনা শুরু হলে ওএমআর পদ্ধতিতে ব্যবহৃত যন্ত্রে ত্রুটি ধরা পড়ে। গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকজন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যায় অসামঞ্জস্য দেখা দিলে প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত পুনরায় গণনা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গণনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত যন্ত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। একাধিক মেশিনের ফল মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শীতের সকালেও ভোটারদের সরব উপস্থিতি
সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম জকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। কুয়াশা ও শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন।
ভোটারদের অনেকেই জানান, এটি তাঁদের জীবনের প্রথম শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া। সামান্য উদ্বেগ থাকলেও সার্বিকভাবে পরিবেশ সন্তোষজনক ছিল বলে মন্তব্য করেন তারা।
দূরদূরান্ত থেকে ভোট দিতে আসেন শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা থেকে আসা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা আফরিন বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হলেও প্রথম ভোট দেওয়ার আনন্দ সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থেকেই বোঝা যায় জকসু নির্বাচন তাদের কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ। এখন সবাই ফলাফলের অপেক্ষায়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মোরসালিন আহমেদ বলেন, মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তিনি তার প্রথম ভোট দিয়েছেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ হলেই স্বস্তি মিলবে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত দিন
ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন প্যানেলের মধ্যে অভিযোগ–প্রতিযোগিতা দেখা যায়। ছাত্রদল সমর্থিত একটি প্যানেল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বহিরাগত উপস্থিতির অভিযোগ আনে।
অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা এবং বহিরাগত আনার অভিযোগ তোলে। পাশাপাশি বামপন্থী ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠন আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করে।
ভোট গণনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান
ভোটগ্রহণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভোট গণনায় কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। কমিশনের সিদ্ধান্ত ও প্রার্থীদের স্বাক্ষর অনুযায়ী গণনা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। নারী ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।
জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত একটি প্যানেল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে। তাদের দাবি, ভোটারদের হাতে দেওয়া কালি সহজেই উঠে যাওয়ায় ভোটের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ভোটের হার ও কেন্দ্রসংক্রান্ত তথ্য
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সংসদে ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৭৩৫ জন এবং হল সংসদে ভোটার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৪৭।
রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. সৈয়দা ইশরাত নাজিয়া জানান, বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটের হার সন্তোষজনক এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ১৫৭টি এবং হল সংসদের ৩৩টি পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।