• সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
র‍্যাবের যৌথ অভিযানে কাশিয়ানীর আলোচিত মোকলেস হত্যা মামলার দুই আসামি আটক গোপালগঞ্জ জেলায় ১৯৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মুকসুদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সরকারি জমি দখলের দায়ে একজনের ১০ দিনের কারাদণ্ড মুকসুদপুরে এস.জে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সরকারি মুকসুদপুর কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের শ্রমিক নেতা বাবু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড মুকসুদপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের পথসভা গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানার–ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এই নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়ার অর্জন মুকসুদপুরে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সফল সমাপ্তি

এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলমের আয়–সম্পদের তথ্যে গরমিল

Published মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন—দুই নথিতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সারজিস আলম। পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থীর আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত ঘোষণায় বড় ধরনের গরমিল উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনায়।


হলফনামা অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। অথচ একই সময়ের ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তার আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, রিটার্নে দেখানো আয় হলফনামার ঘোষণার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। একই প্রার্থীর দাখিল করা দুটি সরকারি নথিতে আয়ের এমন ভিন্ন তথ্যের কারণ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্পদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসংগতি রয়েছে। আয়কর রিটার্নে সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তবে হলফনামায় তিনি তার সম্পদের বিবরণে উল্লেখ করেছেন উল্লেখযোগ্যভাবে কম অঙ্ক।
হলফনামার তথ্যে বলা হয়েছে, তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় তিনি উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। অথচ রিটার্নে ঘোষিত সম্পদের পরিমাণের সঙ্গে এসব হিসাবের মিল পাওয়া যায় না।


কর নথি অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ করবর্ষে সারজিস আলম ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবেও উঠে এসেছে অস্বাভাবিক তথ্য। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে—যারা আত্মীয় নন—তিনি মোট ১১ লাখ টাকা উপহার পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।


নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, শ্বশুর–শাশুড়ি এবং চাচা–মামাদের কাছ থেকেও তিনি উপহার হিসেবে অর্থ পাচ্ছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা স্ক্যান কপিতে টাকার অঙ্কের প্রথম অংশ অস্পষ্ট থাকায় সঠিক পরিমাণ স্পষ্ট নয়। দৃশ্যমান সংখ্যার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা করে পাওয়ার তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি শ্যালকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে অন্তত ১ লাখ টাকা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।


এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারজিস আলমের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, হলফনামায় ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে সারজিস আলমের আয়–সম্পদ সংক্রান্ত এসব অসংগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।


More News Of This Category