রোজবার্তাঃ
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কজন মানুষ সাহস, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁদের অন্যতম। আজ ১৯ জানুয়ারি, তাঁর ৯০তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্রনায়ক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তককে।
১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে ইতিহাসে অমর হয়ে যান। একজন সামরিক কর্মকর্তা হয়েও তিনি হয়ে উঠেছিলেন জাতির সংকটকালে নির্ভরতার প্রতীক।
স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নেন রাষ্ট্র পরিচালনার। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দেশের প্রশাসন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রবর্তিত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসে।
১৯৭৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের মাধ্যমে তিনি জাতির পরিচয়, সংস্কৃতি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারা উপস্থাপন করেন। গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন, কৃষি ও শিল্পখাতে উৎপাদন বাড়ানো এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করে। তবে সময়ের প্রবাহে তাঁর অবদান, আদর্শ ও ভূমিকা আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ও প্রভাবশালী।
জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের পাঠ হয়ে উঠুক—এই প্রত্যাশাই আজ দেশের বহু মানুষের। একজন মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার এই যাত্রা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।