রোজবার্তা সম্পাদকীয়ঃ প্রিন্সিপাল এম এইচ খান মঞ্জু
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরানোই ছিল অন্তর্র্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ। আসন্ন নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন হওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। নির্বাচন না হলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
সরকারকে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে যা যা করণীয় তা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে হবে। সুষ্ঠু পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন কীভাবে করা যায়, তা নিশ্চিতে সরকারকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক দল, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র হচ্ছে সুশাসন, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম সোপান।
গণতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজের মানুষের তথা রাষ্ট্রের নাগরিকরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। নির্বাচনপ্রক্রিয়া হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি সর্বজনস্বীকৃত রীতি ও অপরিহার্য অনুষঙ্গ। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট প্রদানের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এর মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন ঘটে এবং সরকার পরিবর্তন হয়।
বিগত দিনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
যার কারণে সবার নিকট গ্রহণযোগ্য অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এখন অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনগণের ন্যায্য অধিকার, আকাঙ্ক্ষা পূরণসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার স্বার্থে এই নির্বাচনে করণীয় হচ্ছে,
ক) নির্বাচনকালীন প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা ও তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার প্রদান করা;
খ) ভোট গ্রহণের আগে বিভিন্ন বুথে খালি বাক্স সরবরাহের পর অবশিষ্ট শূন্য ব্যালট বাক্সসমূহ যদি থাকে, এমন নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে, যাতে তা প্রার্থী অথবা নির্বাচনি এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্টদের কাছে দৃশ্যমান থাকা নিশ্চিত হয়;
গ) ভোট চলাকালে ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে ব্যালট ভর্তি বাক্স বা বাক্সগুলো সংশ্লিষ্ট বুথেই রাখা, যাতে তা সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং নির্বাচনি এজেন্ট এবং অথবা পোলিং এজেন্টদের নিকট দৃশ্যমান থাকে;
ঘ) ভোট শেষে ব্যালট গণনার জন্য কেবল ভোট গ্রহণে ব্যবহৃত ব্যালট বাক্সসমূহ খোলা এবং
ঙ) প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে হস্তান্তর না করে কেউ যেন ভোট কেন্দ্র ত্যাগ না করে তা নিশ্চিত করা। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে এখন আমরা এমনটিই চাই।
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে আচরণবিধি মেনে চলা, নেতা-কর্মীদের সংযত রাখা, সহিংসতা ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি পরিহার করা-এসব বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনি মাঠে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা যেমন জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের মূল শক্তি একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।
১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। জাতি আশা করছে, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদ ও সরকার গঠিত হওয়ার পর আমরা একটি সুস্থির গণতান্ত্রিক সমাজ পাব।
আগামী নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, উদ্ধার না হওয়া লুণ্ঠিত অস্ত্র, চরমপন্থি ও পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ইস্যু ও ধর্মীয় অপপ্রচার, জামিনপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, আসনভিত্তিক অনিরাপত্তা, প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গুজব ও অপপ্রচার।
সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন