রোজবার্তাঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ জেলায় ভোটগ্রহণ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে জেলার মোট ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯৭টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রেই সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনিক সূত্র জানায়, জেলার তিনটি সংসদীয় আসন—গোপালগঞ্জ–১, গোপালগঞ্জ–২ ও গোপালগঞ্জ–৩—এই তিন এলাকাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করেই এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি, টহল জোরদার এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও মাঠে থাকবেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিই নয়—ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। তারা বলছেন, ভোটাররা যদি ভয়মুক্ত পরিবেশ পান, তাহলে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নির্বাচন হবে গ্রহণযোগ্য।
গোপালগঞ্জ জেলার প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। প্রশাসনের কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সব পক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।