রোজবার্তা প্রতিবেদন :
বহু আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোপূর্বে ধারাবাহিক তিনটি জাতীয় নির্বাচন একপেশে ও প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় কেবলমাত্র অংশগ্রহণকারী কতিপয় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী ছাড়া সাধারণ ভোটার টানতে সম্পূর্ণ ভাবে বাধ্য হয় । এমনকি আওয়ামীলীগের আমলে অনুষ্ঠিত স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলিও ছিল দলীয় প্রতীক ও প্রভাবের সর্বোচ্চ অপপ্রয়োগ। যার জন্য দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায় পুরোপুরি। ফলতঃ জনমনে প্রার্থী এবং নির্বাচনে ভোটদান অনাগ্রহী করে তোলে ব্যপকভাবে। নির্বাচন হয়ে পরে আনুষ্ঠানিক নির্ধারণ।
অবশেষে নানান ঘটনা, দূর্ঘটনার দুর্বিপাকে, বহু অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাত ও আওয়ামী দীর্ঘ অপশাসনের পতন। সরকারের দ্বায়িত্ব গ্রহণ কারী ড. ইউনুস নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন কমিশন গঠন। দেশী, বিদেশী, প্রতিবেশী সহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, পারস্পরিক অবিশ্বাস, অনাস্থা, সংকট এবং যাবতীয় আশংকা দূর করে গত কাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রথম ধাপ দেশব্যাপী প্রায় গোলযোগ হীন ও সতর্কতার মধ্যে দিয়ে দলীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন সংগ্রহ সহ জমা দানে প্রক্রিয়া সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যা নির্দেশ করে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী পরিবেশ সহ নিরপেক্ষতা রক্ষায় অটল।
যদিওবা জাতীয় নির্বাচনের সাথে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি হিসেবে ‘গণভোট’ এর বিষয়টি ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল নিজস্ব প্রার্থী মনোনয়ন, অত:পর পরিবর্তন, আবার বহাল বা বদল, একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী, জোট গঠন, আসন বোঝাপড়ার নানান সমীকরণে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দের কয়েক সহস্র ভোটারে সমর্থন সহ মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যস্ততা ও বাস্তবতায় একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পরেছে ‘গণভোট’ !
যা সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের আগ্রহের বাইরে এবং রাজনৈতিক আলোচনা থেকে ক্রমশ ফিকে হয়ে যাওয়া দায়সারা প্রক্রিয়া মাত্র। অথচ এই ‘গণভোট’ এর জন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি নিয়োগ করে ৬ টি সংস্কার কমিশন গঠন, তাদের পুন: পুন: সময় বৃদ্ধি, সংস্কার প্রস্তাব দাখিল, তা নিয়ে আলোচনা – পর্যালোচনার জন্য জাতীয় ঐক্যমত কমিশন গঠন, অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের সাথে শতাধিক বৈঠক, ব্যাখ্যা, বিবৃতি, নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন, অবশেষে জূলাই সনদ প্রনয়ণ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পাদনের আইনগত ভিত্তিমূলে সর্বসম্মতভাবে ‘গণভোট’ এর আয়োজন। যে জন্য জাতিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে গত দেড় বছর। অথচ তা আজ কতোটা অপ্রাসঙ্গিক উঠে আসে সেই – প্রশ্ন !