রোজবার্তাঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা আশরাফুল আলম শিমুলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রমনা কালী মন্দিরের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা কালী মন্দিরে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা তরুন কুমার মন্ডলের স্বর্গীয় পিতা মনোরঞ্জন মন্ডলের বিশেষ প্রার্থনা সভা শেষে বের হবার পথে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় শাহবাগ থানা পুলিশ আশরাফুল আলম শিমুলকে প্রাথমিক হেফাজতে নেয়। পরে তাকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শিমুলের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, তিনি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করছিলেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় জড়িত ছিলেন না। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল আলম শিমুল একাধিক মামলার আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় গোপালগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ উজ্জামান তার মনোনয়ন বাতিল করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আশরাফুল আলম শিমুলের পিতা মরহুম খায়রুল বাকী মিয়া ১৯৮৫ সালে মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবার সেই রাজনৈতিক পরিচিতি ও ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে আশরাফুল আলম শিমুল ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এবারের সংসদ নির্বাচনে হঠাৎ করে তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি করে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।