রোজবার্তা: স্পষ্ট ভাঙনের মুখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সমমনা আট দল পরিবর্তিত হয়ে গত ১৯ নভেম্বর এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি সম্মেলিত হয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া ১১ দল মাত্র দুই মাসের মাথায় কার্যত ভেঙে যাচ্ছে। প্রধান দুই শরিক জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েনই এর মূল কারণ।
সুদীর্ঘকাল যাবৎ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও অবস্থান ভুলে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের প্রধান দুই ইসলামী রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—সহ আরও বেশ কয়েকটি সক্রিয় দল এক হয় কেবলমাত্র ইসলামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসে। এরপর থেকে উভয় দল একে অপরের সপক্ষে জাতির সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে বেশ কয়েকটি বড় সমাবেশ ও কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা সহ সর্বক্ষেত্রে দল দুইটি ছিল অভিন্ন অবস্থানে এবং বিএনপি ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট হওয়ায় অন্যান্য ছোট কয়েকটি দল মিলে গঠিত হয় আট দল, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় ১১ দলে।
নানা সময়ে তারা যৌথভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি নিয়ে রাজপথে নামার হুমকি দিয়ে সরকারের প্রতি আন্দোলনের চূড়ান্ত সীমা ও দিনক্ষণ জানিয়ে দিলেও বাস্তবিক অর্থে কোনোটিই কার্যকর হয়নি।
সবশেষে বিএনপির নির্বাচনী জোটে সুবিধা না পাওয়ায় এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি মিলে ১১ দল গঠন করে। তবে গত কয়েকদিনের নানা টানাপোড়েন ও আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে প্রধান দুই দল—জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের—নেতৃত্বাধীন এই নির্বাচনী জোট ভেঙে গেছে বলে জানান দল দুইটির শীর্ষ নেতারা। যদিও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অন্য নয়টি দল মুখ খুলতে নারাজ।