• সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
র‍্যাবের যৌথ অভিযানে কাশিয়ানীর আলোচিত মোকলেস হত্যা মামলার দুই আসামি আটক গোপালগঞ্জ জেলায় ১৯৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মুকসুদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সরকারি জমি দখলের দায়ে একজনের ১০ দিনের কারাদণ্ড মুকসুদপুরে এস.জে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সরকারি মুকসুদপুর কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের শ্রমিক নেতা বাবু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড মুকসুদপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের পথসভা গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানার–ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এই নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়ার অর্জন মুকসুদপুরে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সফল সমাপ্তি

প্রার্থী বারোঃ মাঠ নয় কারো!

Published সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

রোজবার্তা বিশেষ প্রতিবেদন :
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গোপালগঞ্জ–১ (মুকসুদপুর–কাশিয়ানীর একাংশ) সংসদীয় আসনে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে ৩ জানুয়ারি ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।


বাতিল হওয়া ওই ৪ জনের মধ্যে ৩ জন আপিলে যান। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরআশরাফুল আলম শিমুলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জান সেলিম খারিজ আবেদন করেন। অপরদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থী মো. কাবির মিয়ার আপিল শুনানিতে তার মনোনয়ন পুরোপুরি বাতিল না হলেও এখন পর্যন্ত তা স্থগিত রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া শেষ মুহূর্তে প্রাথমিকভাবে বাতিল হওয়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাইউম আলী খান আপিল শুনানিতে তার প্রার্থিতা ফিরে পান।


সব মিলিয়ে বর্তমানে স্থগিতাদেশে থাকা কাবির মিয়াসহ মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জন।
এই ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ৯ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ জন। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যেও রয়েছে দুটি ধারা—প্রথমত, যারা এককভাবে বা যৌথ সমন্বয়ে নির্বাচন করছেন এবং দ্বিতীয়ত, যারা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।


একক ও যৌথ সমন্বয় বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। এককভাবে প্রার্থী দেওয়া দলগুলো হলো বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জনতার দল, কমিউনিস্ট পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদ। এই একক দলগুলোর মধ্যে কেবল বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের মধ্যে একটি যৌথ সমন্বয় রয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী বিএনপি যেসব আসন গণ অধিকার পরিষদকে ছাড় দেবে, সেসব আসনে তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে—অর্থাৎ সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়ে। আর যেসব আসন ছাড় দেওয়া হবে না, সেসব আসনে গণ অধিকার পরিষদ অন্যান্য দলের মতো নিজস্ব ট্রাক প্রতীকে প্রার্থী দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সমঝোতার প্রশ্নে কেউ কারও ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করবে না।


দ্বিতীয় ধারায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। তারা প্রথমে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ব্যানারে প্রার্থীতা ঘোষণা দিলেও আসন সমঝোতার প্রশ্নে হঠাৎ করে জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ত্যাগ করে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে ১০ দলভুক্ত জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টি—এই তিন দলের একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মাওলানা আব্দুল হামিদ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।


সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—

১. গণ অধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া (স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার সাপেক্ষে)
২. বিএনপির মো. সেলিমুজ্জান সেলিম
৩. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মিজানুর রহমান
৪. বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরোধ বরন মজুমদার
৫. জাতীয় পার্টির সুলতান হোসেন খান
৬. জনতার দলের মো. জাকির হোসেন
৭. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল হামিদ
৮. স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম শিমুল
৯. স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. আনিসুল ইসলাম
১০. স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাইউম আলী খান


অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রধান দুই প্রার্থী মো. কাবির মিয়া ও আশ্রাফুল আলম শিমুল বর্তমানে কারারুদ্ধ। অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে তিনজনের রয়েছে পূর্ব সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা—মো. সেলিমুজ্জান সেলিম (২০০৮), মো. মিজানুর রহমান (২০১৮) এবং মো. কাবির মিয়া (২০২৪) সালে নির্বাচনে অংশ নেন।

আপাতদৃষ্টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় বাকি তিন সপ্তাহেরও কম। মাঠে প্রায় এককভাবেই সক্রিয় বিএনপি প্রার্থী। সে তুলনায় প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তবে তারাও নিশ্চিন্ত নয়। কারণ কারারুদ্ধ দুই জনপ্রিয় প্রার্থীর প্রতি ভোটারদের রয়েছে নীরব কিন্তু শক্ত সমর্থন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনো প্রথম পছন্দ কাবির মিয়া এবং বিকল্প হিসেবে আশ্রাফুল আলম শিমুল।
এ ক্ষেত্রে অন্যতম রাজনৈতিক নিয়ামক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন কারামুক্ত সাবেক বিএনপি নেতা হাজ্জাজ্জাদ মহসিন খিপু মিয়ার নেতৃত্বাধীন সমর্থক গোষ্ঠী। তারা নির্বাচনের সার্বিক গতি-প্রকৃতি বিবেচনা করে নির্যাতিত মানুষের পক্ষে শেষ পর্যন্ত যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই বেছে নিতে পারেন।


এছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের মুকসুদপুর উপজেলা সভাপতি রবিউল আমল শিকদারের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা ভোট বর্জনের অবস্থান নিয়ে জনমত গঠনে প্রচারণা শুরু করেছেন।


সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ–১ আসনের সংসদ নির্বাচন এখনো এক জটিল ও মিশ্র সমীকরণের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।


More News Of This Category