রোজবার্তা:
প্রায় শতবর্ষে উপনীত এক বৃদ্ধা মা তাঁর কারারুদ্ধ ছেলের মুক্তির জন্য নয়, বরং গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর–কাশিয়ানী) আসনের মানুষের মুক্তির জন্য কাবির মিয়াকে ভোট দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“আমি কাশিয়ানীর মেয়ে। ছোটবেলায় বৌ হয়ে মুকসুদপুর এসেছি। মুকসুদপুর যদি কাবিরের বাবার বাড়ি হয়, তবে কাশিয়ানী তার মায়ের বাড়ি। আগে কখনো ঘর ছেড়ে বের হইনি। আজ ছেলের মুক্তির জন্য নয়, আপনাদের মুক্তির জন্য বলছি—কাবিরকে ভোট দিন। আপনারাই তার অভিভাবক।”
কাবির মিয়ার মায়ের কান্নাভেজা আহ্বানে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন সহস্রাধিক উপস্থিত মানুষ।
আজ সন্ধ্যায় মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর বাসস্ট্যান্ডে কমলাপুর মিয়া পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কমলাপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা। তারা সবাই একাত্ম হয়ে কাবির মিয়াকে বিজয়ী করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপস্থিত জনগণ প্রতিক্রিয়ায় জানান, আজ তারা এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। এটি শুধু কমলাপুর মিয়া পরিবারের সভা নয়; বরং এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী সমাবেশ। যেখানে কারারুদ্ধ সংসদ সদস্য প্রার্থী কাবির মিয়ার পক্ষে তার মা, কারানির্যাতিত খিপু মিয়ার পরিবর্তে তার সহধর্মিণী, মরহুম আতিকুর রহমান মিয়ার কন্যা এবং কাবির মিয়ার স্ত্রী আরিফা রহমান রত্না একসাথে আহ্বান জানান—তারা যেন জনগণের পাশে থাকতে পারেন।
উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন,
“সারাজীবন আমরা এই পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় চলেছি। আজ ঘটনাপ্রবাহে তারা কেউ দৃশ্যপটে নেই—তাদের থাকতে দেওয়া হয়নি। তাদের হয়ে আজ পরিবারের মা, বোন ও ভাবিরা আমাদের ডেকেছেন। এতে আমাদের সাহস ও দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমরা আছি—জীবন দিয়ে হলেও তাদের সম্মান রক্ষা করব এবং বিজয় অর্জন করে ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মো. কাবির মিয়া গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি দীর্ঘ নয় মাস ধরে কারাবন্দী এবং এর আগে দুইবার মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ফারুক খানের বিপরীতে লক্ষাধিক ভোট পেয়ে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ, পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে তার পরিবারের সদস্যদের এই আকুতি ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।