• সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
র‍্যাবের যৌথ অভিযানে কাশিয়ানীর আলোচিত মোকলেস হত্যা মামলার দুই আসামি আটক গোপালগঞ্জ জেলায় ১৯৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মুকসুদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সরকারি জমি দখলের দায়ে একজনের ১০ দিনের কারাদণ্ড মুকসুদপুরে এস.জে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সরকারি মুকসুদপুর কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের শ্রমিক নেতা বাবু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড মুকসুদপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের পথসভা গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানার–ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এই নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়ার অর্জন মুকসুদপুরে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সফল সমাপ্তি

ঠিকানা বাংলাদেশ

Published বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

রোজবার্তা সম্পাদকীয়ঃ মোজাহিদ মহসিন ইমন

আল মাহমুদ লিখেছিলেন :

“কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রিশেষে শুভ শুক্রবারে
মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ;
অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে
ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেবো এ আমার ঈদ।”

আল্লাহ পাক কবির ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন। ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ কবির প্রয়াণ দিনটি ছিল শুক্রবার। এমনটা হয়তো অনেকের ক্ষেত্রেই হয়। আর না হলেও তেমন কিছু নয়। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে হয় তারা খ্যাত বা সামান্য যাই হোন না কেন অন্তত শোকার্ত পরিবার স্বজনেরা সামান্যতম মানসিক আশ্রয় খুঁজে পায় এই মর্মে যে প্রিয়জন তার কাঙ্ক্ষিত দিনে বা স্থানে বিদায় নিলেন। যা তাদের জন্য কম কিছু নয়।

বেগম খালেদা জিয়া কবি নন। উপমহাদেশের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে নারী নেতৃত্বের শীর্ষ জন। তার রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার সরকার প্রধান হওয়া, বিরোধী দলীয় নেত্রীর দ্বায়িত্বপালন বা বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চার দশকের অধিক কাল চেয়ারপার্সন থাকা সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক জোট গঠন ও নেতৃত্ব প্রদানের মতো বহুবিধ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান, অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যজনক অধ্যায়ে ভরপুর। কিন্তু এসব ছাপিয়ে ব্যক্তি খালেদা জিয়া কেবলমাত্র ‘তিনি’ই হয়ে উঠেছেন। আপন স্বকীয়তা, বিকশিত সংগ্রাম আর বিস্ফোরিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন তাকে পৌঁছে দেয় এমন এক উচ্চতায় যে ক্ষেত্রে অন্যসব অভিধা ও বিশেষন খুবই গৌণ। আর বিশেষ্য কেবলমাত্র তিনি বেগম খালেদা জিয়া, এটুকুই যথেষ্ট।

বিশ্বময় গণ সংগ্রামের সেই অল্পসংখ্যক রাজনৈতিকের তিনি একজন যে কিনা রাষ্ট্রক্ষমতা, শাষণকার্য, সিংহাসন বা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অভিপ্রায়, সদিচ্ছা ও সুযোগ এবং বারংবার প্রবাসে সুনিশ্চিন্ত আয়েশি যাপনের প্রলোভন নিমিষে করে তুচ্ছ জ্ঞান একা, হ্যাঁ একা, সম্পূর্ণ একা, একেবারেই একা… হেটে যাবার সাহস এবং সংগ্রামটুকু জারি রেখেছিলেন জীবনভর। তিনি আস্ত এক সংগ্রাম, রাজনৈতিক সংগ্রাম। যার বাস্তব প্রমাণ এজাতী বহুবার প্রত্যক্ষ করলেও এবারও তিনি কথা রাখলেন। কাতার এয়ার এম্বুলেন্স এসে ফিরে গেল। যেন কবি আল মাহমুদের শুক্রবার মৃত্যুবরণ অভিপ্রায় বাস্তব হবার মতো, বেগম জিয়াও রাব্বুল আলামিনের অন্তিম আহবানে সাড়া দিয়ে এদেশের মাটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে, সপ্রমাণ রেখে গেলেন সেই কথাটি ‘আমার একমাত্র ঠিকানা বাংলাদেশ’।

২.

বাংলাদেশ ও খালেদা জিয়া আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গের সূচনা আমরা ভুল করে শুরু করি প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার পর থেকে। কিন্তু না, যে মর্মান্তিক ও মহিমান্বিত অধ্যায়টি আমরা চেপে যাই আর সমালোচকেরা কল্পিত জল্পনায় গল্প ফেদে জলাঞ্জলী দিতে চায় যে অর্জন। সে অজানা অধ্যায়টি বেগম জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক থাকা সময়। দুই অবোধ পুত্র সন্তান সহ আটকে থাকা এক মা, স্বামী যার যুদ্ধরত। সে জীবন যুদ্ধের গল্প আমার কেউ বলিনা। আর যারা বলেছে তারা এতো ঘৃণ্যতম উপাখ্যান শুনিয়েছে যে একজন মুক্তিসেনার যুদ্ধবন্দী পরিবার, সহধর্মিণী ও দুই সন্তান সহ কতোটা বাস্তব সংগত যা আমরা জাতি হিসেবে কল্পনা করিনি কখনো এবং এখনো করতে অপারগ। আমাদের সামাজিক বাস্তবতা, মানসিক দৈন্যতা, নারী মাত্র নিরীহ মনে করার অজ্ঞানতা ও পাকিস্তানিদের হাতে আটক থাকা মানেই এমন অনেক কিছু যা প্রকাশ লজ্জা, ভয়, অপমান। আর হ্যাঁ, তিনি আটকে পরা সেই শ্রেষ্ঠ নারী যার স্বামী মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, তিনি সেই নির্যাতিতা মা যার সন্তান দুইটি জানত না, এ যুদ্ধের সাথে তাদের জীবনের কি সম্পর্ক !

  • না না, আজ না, কোন একদিন ইতিহাস রায় দিবে বাংলাদেশের জন্মের সাথে কতোখানি জড়ানো তার ত্যাগ। যা তিনি জীবন দশায় একবারের জন্য উচ্চারণ করেন নি বা করবার প্রয়োজন হয় নি। কারন তিনি নিজেই মুক্তিযুদ্ধ, তিনি নির্যাতিত লক্ষ মায়ের নির্বাক উচ্চারণ, তিনি খালেদা জিয়া, তিনি বাংলাদেশের সম্ভ্রম।

৩.

নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া স্বামীর লাশ। পাশে সেই দুই নাবালক সন্তান। রেখে যায় নি সম্বল বলে কিছুই। যা হতে পারে নির্মম হত্যাকাণ্ডে শিকার প্রেসিডেন্ট পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবার মতো যৎসামান্য। সেই বিধবা বসনে একবারের জন্য এতিম
সন্তানদের দিকে না তাকিয়ে বরং দেখলেন কাফনের বদলে পতাকা মোড়ানো শবদেহ। তিনি বুঝলেন এতো শুধু তার স্বামী হত্যা বা সংসার অনিশ্চয়তা নয়, এতো বাংলাদেশ কে ফেলে দেওয়া গহীন অনিশ্চয়তায়। সেই থেকে বাংলাদেশ তার সংসার, তিনি যার অভিভাবক। তিনি রুখে দাঁড়ালেন, উচ্চকিত কন্ঠে আসমান বিদীর্ণ হুঙ্কার দিয়ে বললেন “জিয়া হত্যার বিচার সেইদিন হবে, যেদিন স্বৈরশাসক বিদায় করে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।”

সে লড়াই বড় নির্মম, বড় সাংঘাতিক, বড় অনিশ্চিত সে যাত্রাপথের কঠিনতম মূহুর্তে নিজ দলের অনেক বড় বড় কান্ডারী চলে গেল ক্ষমতার স্বাদ গ্রহনে। ভিন্ন ভিন্ন দল ও রাজনৈতিক জোট গুলো একে একে সবাই নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি একা লড়ে গেলেন রাজপথে, বলে গেলেন শেষ কথাটি জনগণের হয়ে। দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিলেন “সব দল ও ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিলেও খালেদা জিয়া যাবে না, জনগন মানবে না।” আশ্চর্যজনকভাবে তার কথা সত্য হলো, জনতা শুনলো। একমাত্র তিনি অংশ না নেওয়ায়, সরকার সহ সকল রাজনৈতিক দল চেষ্টা স্বত্তেও নির্বাচন ব্যর্থতায় পর্যদুস্ত হলো। তার অনড় আন্দোলনে বাধ্য হলো সব রাজনৈতিক দল তার পিছু হাটতে। স্বৈরশাসক বিদায় নিল। নির্বাচন হলো। বিএনপি সরকার গঠন করলো। আবার বিরোধী দলে। পরের বার আবার ক্ষমতায়।

৪.

ক্ষমতা, সরকার, সবকয়টি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ বা বিরোধী দল নেত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন এসব নিরিখে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মানদণ্ড হয় না। তাকে মাপতে হবে সেই নিরিখে যিনি জনগনের মনের কথা বোঝা মাত্র নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার ক্ষেত্রে কখনো বিলম্ব করেন নি। তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন জনগণের অভিপ্রায় সম্মান জানিয়ে। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তী নির্বাচনেও তার দল এককভাবে একশত ষোলটি আসন পেয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ বিরোধী দল হতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি নিজ জীবনের সাথে আন্দোলন ও গনতন্ত্র, মসনদ ও রাজপথ চাবির গোছার ন্যায় আঁচলে বেধেছিলেন। একএগারো কিংবা শেখ হাসিনার দীর্ঘ দুঃশাসন কোনকিছুই তাকে প্রভাবিত করেনি সংগ্রাম ছেড়ে সংসদ প্রাধান্য দিতে। তার রাজনৈতিক অভীষ্টতা ও দেশপ্রেম এতোটাই দৃঢ় ছিল যে রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি কখনো ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিবেশী বা বৈদেশিক পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা সামরিক সাহায্যের তোয়াক্কা করেন নি, করবার প্রয়োজন তার হয় নি। এবং যা কিছু অনিবার্য বাংলাদেশের প্রশ্নে তিনি সেটাই করেছেন। হোক তা সংসদে, মসনদে, বিরোধী দলে বা রাজপথে। স্বামীহারা চার যুগ, পরিবার ছেড়ে দেড় যুগ এবং বিভিন্ন সময় মিলিয়ে তার গ্রেফতার, অবরুদ্ধ, গৃহবন্দিত্ব ও কারাজীবন অর্থাৎ আটককাল প্রায় এক দশক।

বলার জন্য বলা, কোনদিন তার স্বভাবে ছিল না। করবার জন্য তিনি বলতেন। আর অনিবার্য মুহূর্তে অন্তত কেউ না হোক তিনি নিজে সেটা করতেন। শেষবার সাজাভোগ বাধ্যতামূলক বুঝতে পেরে নিজে লন্ডনস্থ পরিবারের সাথে দেখা করতে গেলেন। হাসিনা সরকার ভেবেছিল ও চাইছিল তিনি যেন আর দেশে ফিরে না আসেন। এমনকি পারিবারিক শুভানুধ্যায়ী অনেকেরই পরামর্শ ছিল আপাতত না ফেরাই ভালো। একদিকে শারীরিক অসুস্থতা, বার্ধক্যের সীমাবদ্ধতা ও প্রবাসে পরিবার স্বজনদের সাথে সুনিশ্চিত আয়েশি জীবন অপর প্রান্তে স্যাঁতস্যাঁতে কারাকক্ষের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে একাকী আমৃত্যু সাজা ভোগ। তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার দল ও নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ দুরবস্থা ও অন্তহীন অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত সেই সাথে প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের দুর্দান্ত দাপট আর ক্ষমতার বীভৎস অপপ্রয়োগ, প্রশাসন সহ বিচারালয়, সংবাদমাধ্যম থেকে সংসদ কোথাও কারও নেই বিন্দুমাত্র সত্য বলার সক্ষমতা, সাহস ও সুযোগ। সেই সব বাস্তবতা, পরিস্থিতি ও পরিনতি মাথায় নিয়ে, যাবতীয় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত হিসেব, অংক এবং আশংকা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে, তিনি দেশে ফিরলেন। নির্দিষ্ট দিনে আদালতে হাজির হলেন। তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হলো। তিনি হাসতে হাসতে তেহাত্তর বছর বয়সে কি অভূত সাহসীকতায় খুঁড়াহত পায়ে ভর টেনে টেনে একাকী প্রবেশ করলেন পুরাতন ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে। কেউ না জানুক তিনি জানতেন আজ তার জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিসমাপ্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন হলো। কারণ তার অবশিষ্ট আয়ুষ্কাল নির্দোষ সাজাভোগে বিসর্জন দেওয়াটাই এইমূহুর্তে একমাত্র অনিবার্য বাংলাদেশের প্রশ্নে ! যার মধ্যদিয়ে এ জাতি এবং গণতান্ত্রিক বিশ্ববাসী সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ প্রকৃত রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি। যা তাদের স্বীদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করবে এবং তার অনুপস্থিতি – এ জাতিকে বাধ্য করবে দেশের পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা করতে, সক্ষম করবে সাহস সঞ্চয়ে ও অনুপ্রেরণা জাগাবে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসতে আর তাদের হাতেই পরিসমাপ্ত ঘটবে ইতিহাসের এই নিকৃষ্টতম অধ্যায়ের। আর বাস্তবিক অর্থে হলোও তাই সুদীর্ঘ ছয় বছর সোজা ভোগ সহ শারীরিক অসুস্থতায় বিশেষ শর্তে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চব্বিশের জুলাই ছাত্র – জনতা আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্লজ্জ বিদায় পরবর্তী ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় গণভবনে আন্দোলনকারী সকল ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রথম দাবী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি। রাষ্ট্রপতি তৎক্ষনাৎ সাজা মওকুফের অধ্যাদেশে জারী করলেন। ঊনআশি বছরে উপনীত শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্তির সে অধ্যাদেশ প্রত্যাখ্যান করলেন এবং সুস্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কোন বিশেষ অধ্যাদেশে তিনি মুক্তি নিবেন না, একমাত্র আদালতের রায়ে যদি না তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়। মহামান্য আপীল বিভাগ রায় দিল ২৯ নভেম্বর :

“প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এ মামলা করা হয়েছিল। আর বিচার ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সামাজিক ভাবে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

৫.

বাংদেশের স্বাধীনতা অর্জন একাত্তরের ষোল ডিসেম্বর খালেদা জিয়া প্রথমবার মুক্ত হন। আর শেষবার তার মুক্তি লাভ চব্বিশের জুলাই গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে। অবিস্মরণীয় জীবন যুদ্ধ, প্রবাহিত রক্তস্রোত ধারা, উত্তপ্ত রাজপথ ও কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ ঢেলে বিচ্যুরিত অগ্নিশিখা বেগম খালেদা জিয়া এভাবেই মিশে আছেন বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রাম, স্লোগান ও প্রতিবাদে। নিপিড়ীত মানুষের হৃদয় ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতীক হয়ে বাহান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে বিছিয়ে রাখা তার শাড়ির আঁচল। তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক, তিনি বেগম খালেদা জিয়া, ‘বাংলাদেশ’ এর অপর নাম, তার এক ও অন্তিম ঠিকানা এই ‘বাংলাদেশ’।

সুমহান আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি জান্নাত বারিত হোন, আমিন।।


More News Of This Category