রোজবার্তাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ–১ আসনে আলোচিত প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মো. কাবির মিয়া। দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পরও তিনি গণ অধিকার পরিষদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
গত ৩ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আপিল শুনানির মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কাবির মিয়ার মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাতিল হলেও আপিলে বৈধতা পায়। ওই নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও পতিত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় তার প্রচারণা ও জনসমর্থন স্থানীয়ভাবে ও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টানা ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান শেষমেশ প্রায় সাড়ে নয় হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলেও, কাবির মিয়ার সমর্থকদের অভিযোগ, অর্থ ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে নির্বাচনী ফল ফারুক খানের পক্ষে গিয়েছে।
নির্বাচনের পর মুহাম্মদ ফারুক খান পুনরায় মন্ত্রিসভায় স্থান পান এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও বেড়ে যায়। অপরদিকে কাবির মিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে থেকেও ২০২৪ সালে কাবির মিয়া মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন, যা তার বিপুল জনসমর্থনের প্রমান করে। সরকার পতনের পর ওই পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাবির মিয়া আবারও প্রার্থী হবেন। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে তাকে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথিত অভিযোগে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় থাকা কাবির মিয়ার বিষয়ে তার সমর্থকদের আশা, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাবেন এবং নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। গোপালগঞ্জ–১ আসনে তার আপিলের রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল।