বাদশাহ মিয়া :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এতে করে আসনটিতে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন করে বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দিনের আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আশরাফুল আলম শিমুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিমুলের ছোট ভাই ব্যারিস্টার নাজমুল আলম।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করে আশরাফুল আলম শিমুলের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর আপিল গ্রহণ করে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদেশ দেন।
আশরাফুল আলম শিমুলের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। তিনি ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০২২ সালে মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিনি যে কয়টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি প্রতিটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন।
শিমুলের জনপ্রিয়তার পেছনে তাঁর পারিবারিক পরিচিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁর পিতা খায়রুল বাকী মিয়া এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পিতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে আশরাফুল আলম শিমুলও বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিমুলের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় গোপালগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনী লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।