সম্পাদকীয়ঃ মোজাহিদ মহসিন ইমন
একজন ব্যক্তি তখনই অপরিহার্য হয়ে উঠেন যখন শুধুমাত্র তাকেই দরকার হয় এবং অন্য অনেকের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশী অপরিহার্য যিনি প্রয়োজনীয় কাজটি সবচেয়ে সঠিক, দ্রুত ও গুরুত্বের সাথে করতে পারেন বা করবার অভিজ্ঞতা তার আছে। উদাহরণ স্বরূপ বাংলাদেশে হাজারো লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ আছেন। যারমধ্যে প্রবীণতম প্রফেসর ডা: মবিন খান। যিনি ৯০ বছর বয়সেও রোগী দেখেন। আর তার এই অভিজ্ঞতা ও লিভার রোগের উপর সুদীর্ঘ পর্যবেক্ষণ তাকে আল্লাহর অনুগ্রহে এই বিষয়ে এমন প্রাজ্ঞতা দিয়েছেন যে তিনি নিজেই হয়ে উঠেন রোগীর প্রধান প্রতিষেধক যা চিকিৎসা ও ওষুধপত্র বা পরীক্ষার অধিক।
বর্তমান সময়ে গোপালগঞ্জ ২ নয় শুধু সমগ্র জেলা বাসীর সবচেয়ে বড় সংকট কি ! এটা বুঝতে হলে গোপালগঞ্জ থেকে নয়, এমনকি বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলেও নয়, বুঝতে হবে এর বাইরে থেকে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট সহ অন্যান্য বড় শহর বা নাগরিক জীবন থেকে। তবে ঢাকায় উপলব্ধি করা যায় সবচেয়ে বেশী বা প্রায়শই। আর তা হলো ‘বাড়ি কৈ’ – প্রশ্নে চেপে যাওয়া ‘গোপালগঞ্জ’ বলাটি।
এমন অসংখ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছিল বা আছে যাদের বাড়ী কেবলমাত্র গোপালগঞ্জ হবার জন্য তাদের চাকরি, দোকান, ব্যবসা বা বাড়ি হারাতে হয়েছে। এমনও নজির শত, সহস্র আছে গোপালগঞ্জ বলে বাসা ভাড়া দেওয়া হয়নি অথবা ভাড়াটিয়া গোপালগঞ্জের এটা সহজ ভাবে নেননি অন্যান্য প্রতিবেশী। আর এসব দায়ে বাড়ি থেকে মধ্যরাত রাস্তায় নামতে হয়েছে অনেকের।
হ্যাঁ, এক্ষেত্রে বা ঘটনা সূত্র মুলে, আমরা যারা গোপালগঞ্জ বাসী আমাদেরও যে দোষ বা অপরাধ নেই তা নয়। আমরা অন্তত দল, মত, যে যাই করি না কেন অন্ততপক্ষে এটুকু মানসিক জোর বা অনেকের ক্ষমতা প্রদর্শনের অভিপ্রায় অথবা মারাত্মক অপপ্রয়োগ চর্চা ছিল যা ঘৃণ্য ও অমানবিক। আমরা অনেকেই বিগত সময়ে এমন অজস্র ঘটনা প্রতিনিয়ত অন্যান্য জেলার লোকদের সাথে করেছি ‘কেবলমাত্র গোপালগঞ্জ পরিচয়ে’। যার জন্য আগে আমরা নিজে থেকে অন্যকে জিজ্ঞাসা করতাম – এলাকা কৈ ! যাতে সেও আমার কাছে জানতে চায়, আমার বাড়ি কোথায় ? আর আমি সগৌরবে বলতে পারি, গোপালগঞ্জ। ঠিক তদ্রূপ এখন আমাদের অনেক কে প্রশ্ন করা হলে মানে মানে বলতে প্রায় ৯০ ভাগ গোপালগঞ্জের মানুষ তাদের জেলা যে গোপালগঞ্জ এটা প্রকাশে হীনম্মণ্যতায় ভোগে। কারন আমরা নিজেরা দোষ করি বা না করি অন্ততপক্ষে অপর লোকটা আমায় দোষী ভাবুন, সেটা চাই না অথবা মানসিক একটা ভীতিও কাজ করে যে বাড়ি গোপালগঞ্জ বলবো কিনা, বললে কি হয়, তার চেয়ে চেপে যাই বা চাপা গলায় বলি, ঐতো (পদ্মা) নদীর ওপার !
যে প্রেক্ষাপটে বা যাদের অপরাধেই হোক অতি অল্পসংখ্যক কিছু মানুষের জন্য, আমরা সামগ্রিক ভাবে সমস্ত গোপালগঞ্জ বাসী একটি ‘বিশেষ শ্রেনী’ বা গোষ্ঠী হিসেবে জাতির কাছে প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য বা বর্ণবাদের শিকার হচ্ছি। এর থেকে প্রাথমিক ভাবে উত্তোলনের উপায়, এমন এজকন নেতা বা নেতৃত্ব যিনি শুধুমাত্র গোপালগঞ্জ বলতে তার নিজ উপজেলা অথবা সংসদীয় আসন নয় বরংচ পুরো গোপালগঞ্জ জেলাটাকে ধারণ করতে পারেন বা করবার অতীত অভিজ্ঞতা ছিল ও ভবিষ্যৎ মানসিকতা এবং ব্যক্তি দৃঢ়তা আছে। আর তিনি, এম এইচ খান মঞ্জু।
যেই মানুষটি সমগ্র গোপালগঞ্জ জেলাময় প্রায় সবটা পায়ে হেঁটে বেড়িয়েছেন। তাও কয়েকবার। যার জন্য তার কাছে বাড়ি ‘গোপালগঞ্জ’ বলাটাই যথেষ্ট। কোন উপজেলা অথবা সংসদীয় আসনের ভোটার সেটা কখনো বিবেচনার বিষয় নয়। কারণ এই দেড় বছরেই তিনি তার অবস্থান থেকে যার বাড়ি গোপালগঞ্জ তার জন্য যতোটুকু করেছেন তা অন্যসবাই মিলে চিন্তাও করেন নি ! যার মাধ্যম কিছুটা হলেও তো তাদের কষ্ট লাঘব হয়েছে। এবং এটা তিনি নির্বাচিত হোন বা না হোন, দল ক্ষমতায় থাক বা না থাক, অন্ততপক্ষে তার অতীত অভিজ্ঞতা, পরিচয়, সম্পর্ক ও পদমর্যাদা সহ ব্যক্তিত্ব – সব মিলিয়ে দেশব্যাপী পরিচয় দেওয়ার মতো একটিই নাম, একটি মুখ তিনি, মঞ্জু খান !
ব্যক্তি ভালো বা মন্ধ, পছন্দ – অপছন্দ ও দোষত্রুটি অথবা আলোচনা, সমালোচনা সবাই কে নিয়ে আছে বা থাকতে পারে। বিশেষ করে রাজনীতির ক্ষেত্রটাই তো এসব ঘিরে। তা স্বত্তেও রাজনৈতিক এম এইচ খান মঞ্জুর সবচেয়ে বড় অর্জন জাতীয়তাবাদী ঘরণার সমগ্র গোপালগঞ্জের তিনি সেই মুখ যাকে সারাদেশের যারা চিনবার যোগ্য মানুষ অন্তত তারা ঠিকই চিনেন ও সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেন। আর না চিনলেও তিনি একমাত্র নেতা যিনি আপনার হয়ে লড়াইটা করে যাবার ক্ষেত্রে এতটুকু পিচপা অন্তত হবেন না। আর তাকে পেতে হলে আপনায় চার দিন বসে থেকে কখনো পঞ্চম দিনে এসে, শুনতে হবে না যে – স্যার, গতরাতে আমেরিকা চলে গেছেন !
না, তার কাছে বা সাক্ষাৎ এর ক্ষেত্রে, সে তার বাড়িতে বা কার্যক্ষেত্রে যেখানেই হোক, আপনায় অনিশ্চিত অপেক্ষা করতে হবে না কখনো। তিনি জানা মাত্র বা সুযোগ পাওয়া মাত্র আপনাকে ডেকে পাঠাবেন অথবা সত্যিই যদি ব্যস্ততায় বের হতে হয়, সেক্ষেত্রে তিনি লিফটে নামতে, নামতে, বা গাড়ি থামিয়ে হলেও আপনার কথাটুকু অন্তত শুনবেন। তাতে আপনি পরিচিত হন কি সেটা বিষয় নয়, পরিচয় একটাই বাড়ী গোপালগঞ্জ !
দায় নিয়ে বলছি – শেখ হাসিনা বা শেখ সেলিম বাংলাদেশের নেতা হতে পারেন কিন্তু গোপালগঞ্জের নেতা একজনই তিনি এম এইচ খান। যার বিকল্প কেউ নেই যিনি সমগ্র গোপালগঞ্জ কে নিজের মনে ধারণ করেন। যার প্রমাণ তিনি বহুবার দিয়েছেন। তিনিই সর্বপ্রথম বলেছেন :
” আমার নেতা তারেক রহমান বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ আর আমি বলি সবার আগে গোপালগঞ্জ”
এবং এর মাধ্যমেই আমাদের মুক্তি ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ। এম এইচ খান মঞ্জু দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন, আল্লাহ পাকের দয়ায়, গোপালগঞ্জ ২ নির্বাচনী এলাকার মানুষের ভোটে তিনি নির্বাচিত হবেন ও গোপালগঞ্জ বাসী সারা দেশে বুক উঁচিয়ে হাটবে, আর সেটাই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আর সেই সুযোগটা তাকে দেওয়া নয়
তার মাধ্যমে, আমাদের নেওয়া উচিৎ।
মহান রাব্বুল আলামিন সহায় হোন, আমিন।