রোজবার্তাঃ
দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই–উতরাই, একের পর এক কারাবন্দিত্ব, মামলা ও জামিনের দুষ্টচক্র, এমনকি জেলগেট থেকেই পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনাও পেরোতে হয়েছে তাকে। মনোনয়ন সংগ্রহ, বাতিল, আপিল ও শুনানির দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন গোপালগঞ্জ–১ আসনের গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়া।
আজ মহামান্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায়ের বিপক্ষে করা কাবির মিয়ার করা রিট পিটিশনের শুনানির পর তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে রায় প্রদান করে । এর মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে থাকা আইনি জটিলতার অবসান ঘটে।
প্রায় দুই দশক ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে সরব থাকা কাবির মিয়া স্থানীয় রাজনীতিতে একজন সুপরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা।
তিনি তিনবার মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে দুইবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ–১ আসনে টানা পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও সেই নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি করে।
এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কাবির মিয়াকে প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার সমর্থকরা। ধারাবাহিক মামলা, গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেও তিনি নির্বাচনে থাকার দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন বলে তারা জানান।
সমর্থকদের আশাবাদ, অচিরেই কাবির মিয়া কারামুক্ত হবেন এবং সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারবেন। তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে গোপালগঞ্জ–১ আসনের ভোটারদের মধ্যে উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে। কিছু এলাকায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মিষ্টিবিতরণ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী মাঠের বিদ্যমান সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এবং আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে।